গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে, ৫ আগস্টের পর তৃণমূল পর্যায়ে বাড়তি সহিংসতা ও দখলদারিত্বের কথা উল্লেখ করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের মন্তব্য শোনা গেল। তিনি বললেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে “এবার আমাদের খাওয়ার পালা” এমন মনোভাব গড়ে উঠেছে, যা তিনি নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই মন্তব্যগুলো গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠন” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রকাশিত হয়। আলোচনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই), যার সভাপতি ও প্রাক্তন কূটনীতিক এম. হুমায়ুন কবির স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন।
সেলিমা রহমান উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের জন্য “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ থাকে, তবে নির্বাচনে সম্ভাব্য বিশাল সহিংসতার ঝুঁকি কমে যাবে।
তবে তিনি সতর্ক করেন, গত ১৭-১৮ বছর ধরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়ায় অনেক মানুষই নির্বাচনের প্রকৃত অভিজ্ঞতা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ এখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, যা ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি জোর দেন, সহিংসতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন অপরিহার্য। দেশের বর্তমান অবস্থা একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে, যা না থাকলে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর সম্ভব নয়।
সেলিমা রহমান তৃণমূল পর্যায়ে নৈতিক অবক্ষয়কে একদিনে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এখন রাজনৈতিক দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি।
রাজনৈতিক দলগুলো নারী নিরাপত্তা, তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা ইস্যুতে কথা বললেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি রাখে।
জুলাই আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি আশাব্যঞ্জক বলে স্বীকার করেন, তবে কেন এই অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অভাব রয়েছে।
সেলিমা রহমানের মতে, তৃণমূলের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান ছাড়া কোনো সরকারী সংস্কার কার্যকর করা কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সরকার পতনের পর নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একটি স্বচ্ছ, নির্বাচিত সরকারের উপর, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করবে। তৃণমূলের নৈতিক পুনর্গঠন এবং যুবকদের ভোটার হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।



