এমি-জয়ী শো-রানার নোয়া হাওয়েলি, যিনি ‘ফারগো’, ‘লেজিয়ন’ এবং ‘এলিয়েন: আর্থ’ সিরিজের জন্য পরিচিত, ২০২৬ সালের ক্যানসেরিজ ইন্ডাস্ট্রির গেস্ট অব অনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানটি ২৩ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্রান্সের ক্যানসে অনুষ্ঠিত হবে এবং আন্তর্জাতিক টেলিভিশন শিল্পের প্রতিনিধিদের সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হবে। হাওয়েলি এই সময়ে উপস্থিত থেকে শিল্পের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একাধিক সেশন পরিচালনা করবেন, যেখানে তিনি তার গল্প বলার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
ক্যানসেরিজ ইন্ডাস্ট্রির আয়োজকরা হাওয়েলিকে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, যাতে আধুনিক টেলিভিশনের বৈশ্বিক প্রবণতা ও সাংস্কৃতিক সংযোগের ওপর আলোকপাত করা যায়। হাওয়েলি এই সুযোগকে “গ্লোবাল টেলিভিশনের বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতু গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এ ধরনের সমাবেশ আমাদেরকে সাহসী ও উদ্ভাবনী টিভি প্রোডাকশন তৈরি করতে অনুপ্রেরণা দেয়।”
ক্যানসেরিজের শিল্প পরিচালক আলবিন লেভি হাওয়েলির উপস্থিতিকে “একটি বিশাল সম্মান” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “তার কাজ, ব্যক্তিত্ব এবং ‘লেজিয়ন’, ‘ফারগো’ ও ‘এলিয়েন: আর্থ’ সিরিজের মাধ্যমে গড়ে তোলা বিশাল মহাবিশ্ব আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।” এই মন্তব্যগুলো হাওয়েলির শিল্পে সৃষ্ট প্রভাবকে তুলে ধরে এবং ক্যানসেরিজের মর্যাদা বাড়াতে সহায়তা করে।
‘ফারগো’ সিরিজে হাওয়েলি এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার, লেখক, শো-রানার এবং পরিচালক হিসেবে পাঁচটি সিজনে কাজ করেছেন। এই সিরিজটি ৭০টি প্রাইমটাইম এমি নোমিনেশন পেয়ে সাতটি জয়লাভ করেছে, যা তার সৃজনশীল দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়। হাওয়েলির এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ক্ষেত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
টেলিভিশন জগতে হাওয়েলির ক্যারিয়ার ২০০৫ সালে শুরু হয়, যখন তিনি জনপ্রিয় সিরিজ ‘বোনস’ এ লেখক ও প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি ২০০৯ সালে এবিসি নেটওয়ার্কের ‘মাই জেনারেশন’ এবং ২০১০ সালে ‘দ্য আনইউজুয়ালস’ সিরিজের স্রষ্টা, এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার এবং শো-রানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রাথমিক কাজগুলো তাকে টেলিভিশন শিল্পে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।
হাওয়েলির প্রকৃত ব্রেকথ্রু আসে এফএক্সের ‘লেজিয়ন’ সিরিজের মাধ্যমে, যা তার জেনার-সীমা অতিক্রমকারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জটিল চরিত্র বিশ্লেষণের জন্য প্রশংসিত হয়। ‘লেজিয়ন’ তার সৃষ্টিশীলতা ও কাহিনীর গঠন পদ্ধতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পায়।
২০১৯ সালে হাওয়েলি ‘লুসি ইন দ্য স্কাই’ নামের চলচ্চিত্রে পরিচালক হিসেবে প্রথম পদক্ষেপ নেন, যেখানে নেটালি পোর্টম্যান প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রটি তার চলচ্চিত্র নির্মাণের দক্ষতা এবং মানবিক থিমের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে, যা তার বহুমুখী শিল্পী পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করে।
শো-রানার হিসেবে তার কাজের পাশাপাশি হাওয়েলি লেখক গিল্ড, পেন ক্লাব, ক্রিটিক্স চয়েস এবং পেবোডি অ্যাওয়ার্ডের মতো সম্মানজনক পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই স্বীকৃতিগুলো তার সৃজনশীলতা, গল্প বলার ক্ষমতা এবং সামাজিক প্রভাবের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ক্যানসেরিজ ইন্ডাস্ট্রিতে হাওয়েলির অংশগ্রহণ টেলিভিশন নির্মাতাদের জন্য নতুন ধারণা ও দৃষ্টিকোণ অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিধ্বনিত হয় এমন কন্টেন্ট তৈরিতে।
ইভেন্টের সময় হাওয়েলি বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন, যেখানে তিনি গল্পের গঠন, চরিত্র বিকাশ এবং আধুনিক টিভি ফরম্যাটের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সেশনগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা তার সরাসরি পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবেন, যা তাদের নিজস্ব প্রকল্পে প্রয়োগযোগ্য হবে।
ক্যানসেরিজ ইন্ডাস্ট্রি ২০২৬ সালের এই সংস্করণে হাওয়েলির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন শিল্পের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার উপস্থিতি কেবল তার নিজস্ব কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং গ্লোবাল টেলিভিশনকে আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় করার প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
শো-রানার, পরিচালক ও লেখক হিসেবে নোয়া হাওয়েলির ক্যারিয়ার এবং তার অর্জিত সম্মানগুলো ক্যানসেরিজের এই ইভেন্টকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে, যা শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



