কাবুলে বুধবার অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) বার্ষিক সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তন অনুমোদিত হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের খেলোয়াড়দের বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে অংশগ্রহণের স্বায়ত্তশাসন সীমাবদ্ধ করা হবে এবং এক বছরকে সর্বোচ্চ তিনটি বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, পাশাপাশি আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে প্রধান লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অতিরিক্ত ম্যাচের বোঝা কমিয়ে জাতীয় দলের জন্য সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেও এই নীতি গৃহীত হয়েছে। বোর্ডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত লিগে খেলা খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি আফগান ক্রিকেটার এখন থেকে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নিতে পারবেন। এর অর্থ হল, পূর্বে যেসব খেলোয়াড় স্বেচ্ছায় একাধিক বিদেশি লিগে অংশ নিতেন, তাদেরকে এখন এই সীমা মেনে চলতে হবে। লিগের নির্বাচন ও অনুমোদন বোর্ডের অনুমোদিত কমিটি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
এই নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দেশের শীর্ষ বোলার রাশিদ খানের ওপর। বর্তমানে রাশিদ গুজরাট টাইটান্সের আইপিএল দলে খেলছেন, সাউথ আফ্রিকার এমআই ক্যাপ টাউনের অধিনায়ক এবং এমআই এমিরেটস ও এমআই নিউ ইয়র্কের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন লিগে অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন সীমা মানে রাশিদকে তার বিদেশি লিগের তালিকা সংকুচিত করে সর্বোচ্চ তিনটি লিগে সীমাবদ্ধ করতে হবে, যাতে তার শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
রাশিদের পাশাপাশি, মিডল-অর্ডার অল-রাউন্ডার মোহাম্মদ নাবি, নূর আহমাদ, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, মুজিব উর রহমান, এএম গাজানফার, নাভিন উল হাক এবং ফাজালহাক ফারুকি নামের খেলোয়াড়রাও বিভিন্ন বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণের রেকর্ড রাখেন। নতুন নীতি তাদের সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং প্রত্যেককে তিনটি লিগের সীমা মেনে চলতে হবে।
বোর্ডের সভাপতি মিরওয়াইস আশরাফ, যিনি রাশিদ ও নাবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু বছর খেলেছেন, তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের সীমাবদ্ধতা অন্যান্য দেশের বোর্ডেও বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের ক্রিকেটাররা কোনো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিতে অনুমোদিত নয়, আর পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বছরে সর্বোচ্চ দুটি বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। এভাবে আফগানিস্তানও তার খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছে।
বোর্ড আশা করে যে, লিগের সংখ্যা সীমিত করার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমবে, ফিটনেস বজায় থাকবে এবং জাতীয় দলের জন্য ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের পারফরম্যান্স প্রদান করা সম্ভব হবে। এছাড়া, এই নীতি আফগান ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কোনো খেলোয়াড় যদি অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে লিগে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন, তবে বোর্ডের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শাস্তি আরোপিত হবে। এই ব্যবস্থা আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের কল্যাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



