22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকহাতের সেলাই করা ভারতীয় জাহাজ ইনএসভি কাউন্ডিন্যা ওমানে পৌঁছাল

হাতের সেলাই করা ভারতীয় জাহাজ ইনএসভি কাউন্ডিন্যা ওমানে পৌঁছাল

বুধবার, ভারতীয় নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের জাহাজ ইনএসভি কাউন্ডিন্যা ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছে, স্থানীয় নৌবাহিনীর তরঙ্গবন্দনা পেয়ে। জাহাজটি ১৭ দিন সমুদ্রযাত্রা শেষে, ভারতীয় উপকূলের পোর্বন্দর থেকে রওনা হয়।

যাত্রা শুরু হয় ২৯ ডিসেম্বর, পোর্বন্দর থেকে, যা প্রাচীন সমুদ্রপথের অংশ, যেখানে হাজারো বছর আগে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক সংযোগ গড়ে উঠেছিল। এই রুটটি পুনরায় অতিক্রম করে, জাহাজটি ইতিহাসের পুনর্জীবন ঘটিয়েছে।

কাউন্ডিন্যা নামটি এক কিংবদন্তি ভারতীয় নাবিকের নামে রাখা, যিনি প্রাচীন সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নৌযাত্রা করতেন। জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে নির্মিত, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়নি।

কাঠের তক্তাগুলো নারকেল ফাইবারের কোয়ির দড়ি দিয়ে হাতে সেলাই করা হয়েছে এবং প্রাকৃতিক রেজিন দিয়ে সিল করা হয়েছে। এই পদ্ধতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রচলিত ছিল, যেখানে ধাতব নখ বা স্ক্রু ব্যবহার করা হতো না।

ইঞ্জিনের বদলে জাহাজটি বর্গাকার পাল ব্যবহার করে, যা মন্দার সুবিধাজনক বাতাসে গতি পায়। সমুদ্রের স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাতাসের সাহায্যে, জাহাজটি নির্ভরযোগ্যভাবে চলাচল করে, যা প্রাচীন নাবিকদের দক্ষতা পুনরায় প্রদর্শন করে।

ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা আসে পশ্চিম ভারতের অজন্তা গুহার পঞ্চম শতাব্দীর চিত্র থেকে, যেখানে সমুদ্রযাত্রার একটি নৌকা চিত্রিত হয়েছে। ঐ চিত্রটি প্রাচীন ভারতীয় নৌযাত্রার বিরল ভিজ্যুয়াল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত।

সেই সময়ের কোনো নকশা নথি বেঁচে না থাকায়, নৌবিজ্ঞানী ও নৌশিল্পী আইকনোগ্রাফি ও ঐতিহাসিক রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করে জাহাজের আকার পুনর্গঠন করেছেন। এই পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আধুনিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জাহাজের পালের ওপর গন্ধবেরুন্দা—দুই মাথা বিশিষ্ট পাখি—এবং সূর্যের মোটিফ সজ্জিত, যা হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর প্রতীক। জাহাজের বগলে সিংহ যালি—দক্ষিণ ভারতীয় পুরাণের একটি রূপ—কাটাছে, আর ডেকে হারাপ্পা শৈলীর পাথরের নোঙর স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রাচীন সমুদ্রযাত্রার স্মারক।

নির্মাণ কাজ শুরু হয় সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ, এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ গোয়ায় লঞ্চ করা হয়। এই সময়কালে, ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও আধুনিক নৌবিজ্ঞানীর সমন্বয়ে কাজটি সম্পন্ন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সঞ্জীব সান্যালও ক্রু সদস্য হিসেবে অংশ নেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত যাত্রার আপডেট শেয়ার করেন। এক ছবিতে ভারী বৃষ্টিতে ডেক ভেজা অবস্থায় জাহাজের দৃশ্য দেখা যায়, যা যাত্রার কঠিনতা প্রকাশ করে।

ওমানে পৌঁছানোর পর, ভারতীয় নৌবাহিনী ও ওমানি নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রবন্দনা অনুষ্ঠান হয়, যা দুই দেশের সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জাহাজের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী নৌযাত্রা কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নয়, বরং ভারত-ওমানের কূটনৈতিক বন্ধনকে মজবুত করে এবং অঞ্চলীয় সমুদ্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সংযোগে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে। ঐতিহাসিক রুটের পুনরুজ্জীবন ভবিষ্যতে আরও যৌথ প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ভিত্তি হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments