তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (তিতাস গ্যাস) বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের লক্ষ্য করে একটি সতর্কতা জানিয়েছে, যেখানে কিছু প্রতারক নিজেদেরকে তিতাসের কর্মকর্তা বলে ফোনে কল করে গ্যাস বিলের পেমেন্টের জন্য ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতে বলছে। এই জাল কলের ফলে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারে এবং কোম্পানির পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। তিতাস গ্যাসের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাহকদের সঠিক পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা রোধ করা।
প্রতারণাকারীরা ফোনে গ্রাহকদের জানিয়ে থাকে যে তাদের গ্যাস বিল বকেয়া এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তি না করলে সেবা বন্ধ হবে বা অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ হবে। এরপর তারা ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর প্রদান করে, যেখানে গ্রাহককে নগদ বা মোবাইল ফান্ড পাঠাতে বলা হয়। এই পদ্ধতি সাধারণত দ্রুত নগদ প্রবাহের সুবিধা দেয়, তবে প্রকৃত তিতাস গ্যাসের কোনো অনুমোদন নেই এবং গ্রাহকের অর্থ সরাসরি প্রতারকের হাতে পৌঁছে যায়।
তিতাস গ্যাসের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে গ্যাস বিল পরিশোধের একমাত্র অনুমোদিত পদ্ধতি হল কোম্পানির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার অথবা সরকার অনুমোদিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, রকেট, উপায়, ট্যাপ) ব্যবহার করা। এই চ্যানেলগুলোতে লেনদেনের রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিতাস গ্যাসের সিস্টেমে আপডেট হয়, ফলে পেমেন্টের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। কোনো ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর বা অপ্রচলিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
গ্রাহকদেরকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো অননুমোদিত নম্বর থেকে কল বা এসএমএস পান, তবে তা অবিলম্বে উপেক্ষা করা এবং তিতাস গ্যাসের অফিসিয়াল হটলাইন অথবা নিকটস্থ রাজস্ব অফিসে যোগাযোগ করা উচিত। তিতাস গ্যাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার না করলে গ্রাহক শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতির শিকারই হবেন না, বরং গ্যাস সেবার স্থগিতের ঝুঁকিও বাড়বে।
প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে তিতাস গ্যাস গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট রাজস্ব অফিসে গিয়ে পেমেন্টের রসিদ যাচাই করা অথবা হটলাইন নম্বরে কল করে বর্তমান বকেয়া এবং পেমেন্টের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। এই ধরনের সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করে এবং কোম্পানির আর্থিক প্রবাহে অনিয়ম কমায়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, গ্যাস বিলের মতো নিয়মিত ইউটিলিটি পেমেন্টে প্রতারণা বৃদ্ধি পেলে গ্রাহকের পেমেন্ট আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে তিতাস গ্যাসের নগদ প্রবাহে অস্থায়ী চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, গ্রাহকের আস্থা হ্রাস পেলে সময়মতো পেমেন্টের হার কমে যায়, যা কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো ম্যানেজমেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, তিতাস গ্যাসের অফিসিয়াল মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার বাড়লে ডিজিটাল পেমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এই চ্যানেলগুলো স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন, রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন এবং রসিদ ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষণের সুবিধা দেয়, যা গ্রাহক ও কোম্পানির উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক। ফলে, দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল পেমেন্টের ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হবে।
তিতাস গ্যাসের জন্য এই ধরনের প্রতারণা আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও ব্র্যান্ড ইমেজের ক্ষতি ঘটাতে পারে। যদি গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে জাল কলের শিকার হন এবং তিতাস গ্যাসের সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তবে কোম্পানির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে, গ্যাস সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের বিশ্বাস বজায় রাখা ব্যবসার টেকসই বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও তিতাস গ্যাসের সমন্বয়ে অতিরিক্ত সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং গ্রাহক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্বয়ংক্রিয় এসএমএস সতর্কতা, কলার আইডি যাচাই এবং অনলাইন পোর্টালে রিয়েল-টাইম পেমেন্ট স্ট্যাটাস প্রদর্শন গ্রাহকের নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে প্রতারণার হার কমাতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, তিতাস গ্যাসের নতুন নির্দেশনা গ্রাহকদেরকে শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে গ্যাস বিল পরিশোধের আহ্বান জানায়, যাতে জাল কলের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি রোধ করা যায়। ব্যবসা ও বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই পদক্ষেপ গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখা, ডিজিটাল পেমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং কোম্পানির নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতারণা কমানো সম্ভব হবে।



