28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনবিবাহের প্রকৃত ব্যয়: ভেন্যু, খাবার ও সাজসজ্জার খরচের বিশ্লেষণ

বিবাহের প্রকৃত ব্যয়: ভেন্যু, খাবার ও সাজসজ্জার খরচের বিশ্লেষণ

বিবাহের মৌসুম যখন শীর্ষে, তখন অনেক দম্পতি বড়, রঙিন ও নাটকীয় অনুষ্ঠান কল্পনা করে, যা প্রায়ই বলিউডের সিনেমায় দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবির ও ভিডিওর প্রভাবেও পিন্টারেস্টে নানা থিমের সংগ্রহ দেখা যায়। তবে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রথমে ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ জানাটা জরুরি।

বিবাহের মোট খরচ একসাথে নির্ধারিত কোনো মূল্য নয়; এটি ভেন্যু, খাবার, সজ্জা, ফটোগ্রাফি, পোশাক, মেকআপ এবং ছোটখাটো অতিরিক্ত খরচের সমষ্টি। দম্পতি যেকোনো সময়ে বিবাহের পরিকল্পনা করুক না কেন, অথবা অনুষ্ঠানটি বড় হোক বা ছোট, সব খরচের একটি স্পষ্ট ধারণা থাকলে পরিকল্পনা সহজ হয়।

খরচকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়: প্রথমটি হল অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত মৌলিক ব্যয়, যেমন ভেন্যু ভাড়া, খাবার, সজ্জা ও ফটোগ্রাফি; দ্বিতীয়টি হল অনুষ্ঠান-বহির্ভূত প্রয়োজনীয়তা, যেমন মেকআপ আর্টিস্ট, পোশাক, উপহার ও অন্যান্য সেবা। এই দুইটি বিভাগ আলাদা করে দেখা হলে মোট ব্যয় কতটা হতে পারে তা সহজে অনুমান করা যায়।

ঢাকায় জনপ্রিয় কিছু ভেন্যু, যেমন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা ও আলোকি গ্লাসহাউস, ভেন্যু বুকিং ফি না নিয়ে কাজ করে। প্রথমে এটি সস্তা শোনাতে পারে, তবে তারা প্রতি প্লেটের মূল্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। সাধারণত এই মূল্য প্রতি ব্যক্তির জন্য ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া, এই ভেন্যুগুলো প্রায়শই নিজেদের ইনহাউস ডেকোরেটর ব্যবহার করার শর্ত আরোপ করে। ইনহাউস সজ্জা সেবার খরচ ভেন্যুর আকার ও সজ্জার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকার বেশি হতে পারে। ফলে, যদিও বুকিং ফি শূন্য, মোট ব্যয় তবু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

অন্যান্য কিছু ভেন্যুও বুকিং ফি না নিয়ে উচ্চ পার-প্লেট চার্জের মাধ্যমে আয় করে। তবে এদের ক্ষেত্রে দম্পতিকে নিজেরাই সজ্জা আউটসোর্স করার অনুমতি থাকে, যা সজ্জা সংক্রান্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং সৃজনশীল দিক থেকে বেশি স্বাধীনতা দেয়।

বিবাহের খাবার খরচের ক্ষেত্রে, পার-প্লেট মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত সেবা, যেমন ডেজার্ট টেবিল, ককটেল বার ও বিশেষ খাবার, মোট ব্যয়কে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ভেন্যু নির্বাচন করার সময় এই অতিরিক্ত সেবার সম্ভাবনা বিবেচনা করা দরকার।

ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি খরচও উল্লেখযোগ্য। পেশাদার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার সাধারণত প্যাকেজে বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে প্রি-ওয়েডিং শুট, ডেজিটাল অ্যালবাম ও এডিটেড ভিডিও থাকে। এই প্যাকেজের দাম ভেন্যু ও সেবার মানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ারস্টাইলিস্ট ও পোশাকের খরচও মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ গঠন করে। দম্পতি যদি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পরিবর্তে আধুনিক ডিজাইন বেছে নেয়, তবে খরচে পার্থক্য দেখা যায়। এছাড়া, গিফট ও রিসেপশন গুডসের জন্য আলাদা বাজেট রাখতে হয়।

বিবাহের মোট ব্যয় নির্ধারণের সময় সব উপাদান একত্রে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভেন্যু নির্বাচন, খাবারের পার-প্লেট মূল্য, ইনহাউস বা আউটসোর্স সজ্জা, ফটোগ্রাফি প্যাকেজ ও ব্যক্তিগত সেবার খরচ একত্রে যোগ করলে মোট ব্যয় স্পষ্ট হয়।

দম্পতিরা যদি বাজেটের মধ্যে থাকতে চান, তবে প্রথমে একটি মোট বাজেট নির্ধারণ করে প্রতিটি খরচের জন্য সীমা নির্ধারণ করা উচিত। এরপর ভেন্যু ও সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত ফি বা লুকায়িত খরচের সম্ভাবনা কমানো যায়।

সারসংক্ষেপে, বিবাহের ব্যয় নির্ধারণে ভেন্যু ফি, পার-প্লেট খাবার, সজ্জা, ফটোগ্রাফি, মেকআপ ও পোশাকের খরচের সমন্বয় প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজেটিংয়ের মাধ্যমে স্বপ্নের অনুষ্ঠানকে আর্থিক চাপ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments