মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপলিসে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা মঙ্গলবারের প্রতিবাদে আইসিই গাড়ি বাধা দেওয়ার পর একটি গাড়ি থেকে ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমানকে জোরপূর্বক বের করে নেয় এবং তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রতিবাদে অংশগ্রহণের সময় ঘটেছে এবং ভিডিওতে এজেন্টদের গাড়ির জানালা ভেঙে তাকে টেনে বের করার দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজেকে অক্ষম বলে উল্লেখ করে এবং ডাক্তারের কাছে যেতে চাচ্ছিলেন বলে জানায়। এজেন্টরা তাকে হাতে চেইন দিয়ে গলায় লাগিয়ে নিয়ে যায়, আর প্রতিবাদকারীরা চিৎকারের মধ্যে ঘটনাটিকে রেকর্ড করে।
আলিয়া রহমানের পেশাগত পরিচয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকার কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশে কাটিয়েছেন, যা তার সাংস্কৃতিক পটভূমি গঠন করেছে।
তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া মিনিয়াপলিসে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে কাজ করেন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ক্যারিয়ার প্রযুক্তি-নির্ভর সংস্থায় বহু বছর ধরে বিস্তৃত।
সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি নিজেকে ‘ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ডিনায়েবল অ্যাসেট’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা তার কমিউনিটি-ভিত্তিক কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তার অনলাইন উপস্থিতি তার সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আলিয়া বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে পুলিশ বডি-ক্যামের নীতি সমর্থন, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে দশ বছরের অংশগ্রহণ এবং প্রো-ফিলিস্তিনি উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত। এই সংযুক্তি তাকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তুলেছে।
তিনি পূর্বে নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তার গবেষণা পুলিশ বডি-ক্যামের সংহতি ও নীতি নির্ধারণে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রযুক্তি ও ন্যায়বিচার সংযোগে বিশেষজ্ঞ করে তুলেছে।
আলিয়ার বাংলাদেশী সংযোগও মিডিয়ায় উল্লেখিত হয়েছে; যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন, তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশে কাটানোর ফলে তিনি উভয় দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত। এই পটভূমি তার মানবাধিকার কর্মে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণ করা হয়।
মিনিয়াপলিস পুলিশ এবং আইসিই উভয়ই ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আলিয়ার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে এবং আইসিই-এর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে আইনগত পর্যালোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী আদালতে প্রাসঙ্গিক রায় দেওয়া হবে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন এবং প্রতিবাদকারীরা ঘটনাটিকে অতিরিক্ত জোরালোভাবে নিন্দা করেছে এবং আইসিই-র কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তারা আলিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং প্রতিবাদে তার অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দ্রুত আইনি সহায়তা চেয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আলিয়ার গ্রেফতার রেকর্ড এবং ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে আইসিই-র নির্ধারিত শাস্তি বা শর্তাধীন মুক্তি দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, আইসিই-র কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে সম্ভাব্য আপিল বা প্রশাসনিক পর্যালোচনা হতে পারে।
এই ঘটনার পর, মিনিয়াপলিসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ফেডারেল সংস্থাগুলি উভয়ই জনসাধারণের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার মধ্যে সঠিক সমতা বজায় রাখার জন্য নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রোটোকল সংশোধন এবং প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



