19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনেপালি কংগ্রেসে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নতুন সভাপতি গগন থাপা নির্বাচন, দলভাঙ্গন গম্ভীর

নেপালি কংগ্রেসে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নতুন সভাপতি গগন থাপা নির্বাচন, দলভাঙ্গন গম্ভীর

নেপালের সর্বপ্রাচীন রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নতুন সভাপতি নির্বাচন করে দলভাঙ্গনের চিহ্ন দেখিয়েছে। মার্চে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগে, দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের বিরোধ তীব্র হয়ে দলকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। এই পরিবর্তন দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নেপালি কংগ্রেস, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুর দিন থেকে সক্রিয়, এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটে। গত সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে সরকার দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার অভিযোগে পতন ঘটার পর, দলটির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রশ্ন তীব্র হয়ে ওঠে।

বিরোধী গোষ্ঠী সর্বসম্মতিক্রমে গগন থাপাকে নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করে। এই সিদ্ধান্তটি দলের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর বিরুদ্ধে এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সভাপতি পদে ছিলেন।

নতুন সভাপতি গগন থাপা নির্বাচনের পর প্রথম ভাষণে বললেন, “আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।”

তবে দলভাঙ্গনের ফলে কোন অংশকে বৈধভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং ৫ মার্চের নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছের প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই জানান, “কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে দলভাঙ্গনের প্রভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কীভাবে পড়বে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

শের বাহাদুর দেউবা, যিনি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে দলের শীর্ষে ছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিরোধী নেতারা বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান জানায়, যা দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

বৈধতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, দেউবার পদত্যাগসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমঝোতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দলভাঙ্গনের ঝড় আরও তীব্র হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে গগন থাপা এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কার আরোপ করা হয়, এবং বিরোধী গোষ্ঠী গগন থাপাকে তাদের সভাপতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ৪৯ বছর বয়সী থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ, পূর্বে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গগন থাপা তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে দলটি প্রজন্মগত পরিবর্তন ও জবাবদিহিতার দাবি তুলে ধরছে, যা পুরনো কাঠামোকে পুনর্গঠন করার সংকেত দিচ্ছে।

এই দলভাঙ্গন নেপালের রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচক হতে পারে। পুরনো দলগুলোর অভ্যন্তরে নতুন মুখের উত্থান এবং নেতৃত্বের পুনর্গঠন দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

সেই সঙ্গে, গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছেন, যা নেপালি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিক নির্দেশ করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments