সিআইডি দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে ইলেকশন কমিশনের কম্পিউটার অপারেটর‑ক্যুম‑অফিস সহকারী অন্তর্ভুক্ত, ন্যাশনাল আইডি (এনআইডি) কার্ড জালিয়াতি এবং নাগরিকদের গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে।
গ্রেফতারের সময়, সিআইডি স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট জাসিম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, এই দুইজনের মাধ্যমে মাসে এক কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে।
সিআইডি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, সন্দেহভাজনরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি সংগঠিত সিন্দিকেটের অংশ, যারা অনুমোদনহীনভাবে এনআইডি সংশোধন, ভুয়া তথ্য সন্নিবেশ এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডেটা বিক্রিতে লিপ্ত।
সিন্দিকেটের কার্যক্রমে এনআইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন, নকল তথ্য যুক্ত করা এবং ডেটাবেস থেকে তথ্য চুরি করে বিক্রি করা অন্তর্ভুক্ত।
এই অপরাধমূলক কাজের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সরাসরি কম্পিউটার অপারেটরের কাজের সঙ্গে যুক্ত, যা ইলেকশন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছে।
গ্রেফতারের পর, সিআইডি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সকল ডিভাইস ও নথি জব্দ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জাসিম উদ্দিন খান উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের পরিসর ও জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
সিআইডি আজই সদর দফতরে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে মামলার অতিরিক্ত বিবরণ প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। ব্রিফিংয়ে আরও বিশদ তথ্য শেয়ার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এনআইডি জালিয়াতি ও গোপন তথ্যের অবৈধ বিক্রি বাংলাদেশ আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে; সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
এ ধরনের তথ্য চুরির ফলে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তথ্য সুরক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভবিষ্যতে, ইলেকশন কমিশন ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা তথ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তিগত আপডেট এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।
সিআইডি এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলকে আইনের আওতায় আনার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে এবং জনসাধারণকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তথ্য শেয়ার করবে।



