খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে; এদের মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রকে বিশেষভাবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকা ডিএসবি (বিশেষ শাখা) কর্তৃক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেনের অনুমোদন পেয়েছে।
শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, “ডিএসবি আমাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ, সাধারণ এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা সরবরাহ করেছে, এবং আমরা শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথোপযুক্ত সংখ্যা মোতায়েন করা হবে।
খাগড়াছড়ি জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৫৪,১১৪, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৮০,২০৬, নারী ভোটার ২,৭৩,৯০৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্য নির্বাচন অফিসের রেকর্ডের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় সকল ভোটারকে সমানভাবে সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপারintendেন্ট সায়েম মির্জা সায়েম মাহমুদের মতে, “ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রার্থীদের ভোটদানের কেন্দ্রগুলোকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছি।” তিনি যোগ করেন, “প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা কর্মী মোতায়েন করা হবে, এবং বিশেষভাবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত কর্মী, টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।”
ডিএসবি কর্তৃক চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হবে। এতে স্থানীয় পুলিশ, র্যাপিড রেসপন্স টিম এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে দুইজন পুলিশ অফিসার এবং একজন র্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্য উপস্থিত থাকবে, যাতে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৬৩টি কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত গার্ড, মোবাইল পেট্রোল এবং ড্রোন পর্যবেক্ষণসহ আধুনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী দিন রাতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে সম্ভাব্য হিংসা বা অশান্তি রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ভোটগ্রহণের সময় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরণের হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটারদের জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে ভোটকেন্দ্রের চারপাশে সুরক্ষা গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করার জন্য হেল্পলাইন নম্বর সক্রিয় রাখা হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটদানের সময় কেন্দ্রের আশেপাশে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা এবং জরুরি রেসকিউ সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, ভোটারদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইলেকট্রনিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি, নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য তথ্য প্রচার চালু করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে ভোটারদেরকে নিরাপত্তা নির্দেশনা, ভোটদানের সময়সূচি এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য প্রদান করা হবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করা সম্ভব হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস বাড়বে।
সামগ্রিকভাবে, খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট চিহ্নিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ মোতায়েন এবং ভোটার সচেতনতায় জোর দিয়ে, জেলা নির্বাচন অফিস শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।



