বিএনপির ভাইস‑চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার স্মরণে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচনে কোনো ধরণের ব্যত্যয় ঘটে, তবে দেশের গণতন্ত্র গড়ার স্বপ্ন এবং সার্বভৌমত্ব উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দুদু বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মত প্রকাশ করছে, তবে সরকারী সংযোগ সবচেয়ে বেশি থাকা দলটি হল এনসিপি। তিনি স্বীকার করেন, এনসিপি তাদের অবস্থান ও সমতা বজায় রাখার দাবি তুলে ধরছে এবং তিনি এ বিষয়ে একমত যে স্বচ্ছ ও সমান সুযোগের পরিবেশ ছাড়া নির্বাচনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা কঠিন।
বক্তা আরও জোর দেন, সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। অন্যথায়, জনগণকে শুধু কথায়ই আটকে রাখবে, বাস্তব পদক্ষেপের অভাবের কারণে বিশ্বাসহীনতা বাড়বে।
দুদু দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের বর্তমান কষ্টের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে, যদিও বর্তমান সময়ে সরকারের হাতে সীমিত সময় রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় এক বছর ও আট মাসে মূল্যের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি কোনো হ্রাস দেখা যায়নি, ফলে মানুষকে আরেকটি সরকার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইন ও শৃঙ্খলার পরিবেশও অপরিহার্য, তবে দুদু উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে তা পর্যাপ্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করে।
অনুষ্ঠানটি জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিতদের স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়া, যিনি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন ছিলেন, তার স্মৃতিতে এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুদুর বক্তব্যের পর উপস্থিতরা তার উদ্বেগের সাথে সহমত প্রকাশ করে, স্বচ্ছ ও সমতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা দাবি করেন।
দুদু শেষ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া কোনো ব্যত্যয় ছাড়া সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা পুনর্স্থাপন হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।



