মাগুরা-১ থেকে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১,৮৫,০০০ ভোটে জয়লাভকারী সাকিব আল হাসান, আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিডি ক্রিকটাইমের অনলাইন আলোচনায় ভবিষ্যতে মাগুরা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বললেন, সুযোগের দরজা খুলে গেলে তিনি আবারও মাগুরা থেকে ভোটের জন্য লড়াই করবেন। তার এই মন্তব্য ক্রীড়া ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। সাকিবের বক্তব্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও তার স্বদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন এবং সেবা করার ইচ্ছা অটুট।
সাকিবের রাজনৈতিক যাত্রা ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে শুরু হয়। আওয়ামী লীগের মনোনীত হয়ে তিনি ঐ নির্বাচনে বিশাল ভোটের সমর্থন পেয়ে সংসদ সদস্য হন। তবে একই বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিশাল পরিবর্তন ঘটার ফলে সরকার পতিত হয় এবং সংসদ ভেঙে দেয়া হয়।
সরকারের পতনের পর সাকিব দেশের বাইরে ছিলেন, তবু তার নামে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এই আইনি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তাকে তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হয়। তবে তিনি এই পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক আগ্রহে কোনো বাধা হিসেবে দেখেন না।
সাক্ষাৎকারে সাকিব স্পষ্ট করে জানান, “নির্বাচন না করা কেন? আমি অবশ্যই আবার লড়ব।” তিনি নিজের সিদ্ধান্তে কোনো দ্বিধা না রেখে, ভবিষ্যতে মাগুরা থেকেই ভোটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার এই মন্তব্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার তার সংকল্প দৃঢ়।
মাগুরার মানুষের সেবা করার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, এ কথাটিও তিনি জোর দিয়ে বলেন। স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে তার ভূমিকা পুনরায় গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি তার পূর্ববর্তী সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
ক্রিকেটের ক্ষেত্রে সাকিব বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণের কারণে মাঠে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়া ও রাজনীতি দুটোই তার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় ক্ষেত্রেই তার অবস্থান বজায় রাখার জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি এবং কিছু মানুষের অসন্তোষ সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তার জনপ্রিয়তা এবং মাগুরা অঞ্চলের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সংযোগ তাকে পুনরায় নির্বাচনী মঞ্চে ফিরে আসতে সহায়তা করতে পারে।
সাকিবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমি মাগুরা থেকে আবার লড়ব এবং মানুষের সেবা চালিয়ে যাব।” এই বক্তব্যে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং ক্রীড়া ক্যারিয়ারের মধ্যে সমন্বয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মাগুরা থেকে আবার নির্বাচনে লড়ার তার ইচ্ছা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। আগামী নির্বাচনের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত না হলেও, সাকিবের এই ঘোষণা তার সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



