27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনওগাঁ টিটিসি ড্রাইভিং কোর্সে পাসের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ২০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁ টিটিসি ড্রাইভিং কোর্সে পাসের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ২০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁ জেলার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)‑এ চালু করা সরকারি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সে শেষ পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে, যা কোর্সের বিনামূল্য নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

টিটিসি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সরকার পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে লাইট ও হেভি যানবাহন চালনা, ট্রাফিক নিয়ম ও মৌলিক রক্ষণাবেক্ষণ শেখানো হয়। প্রশিক্ষণকাল সাধারণত তিন থেকে চার মাসের মধ্যে থাকে এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা হয়। গত ডিসেম্বর মাসে নওগাঁর টিটিসিতে চার মাসব্যাপী ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীকে ফেল না করে পাস নিশ্চিত করতে, ব্রিটিএ (ব্রিটিশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, ২৮ ডিসেম্বর শেষ প্রশিক্ষণ দিনেরই কোর্সের স্যারগণ জানিয়ে দেন যে, পাসের নিশ্চয়তার জন্য প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। প্রথম ব্যাচের ২৫ জন ও দ্বিতীয় ব্যাচের ২৪ জন শিক্ষার্থী থেকে এই টাকা সংগ্রহ করে স্যারদের হস্তান্তর করা হয়।

একজন শিক্ষার্থী, যিনি বগুড়া থেকে এসেছেন, উল্লেখ করেন যে, কোর্সটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়া উচিত, তবু টাকা না দিয়ে পাসের সুযোগ না পেলে তিনি ব্যক্তিগত দালালের মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা ভাল মনে করেন। তিনি বলেন, “এই কোর্সের মূল উদ্দেশ্যই যদি টাকা দিয়ে পাস করতে হয়, তবে সরকারি উদ্যোগের কী দরকার?”।

টিটিসির অতিথি প্রশিক্ষক মো. ওয়ালীউল্লাহ সনি ব্যাখ্যা করেন যে, নওগাঁই নয়, সমগ্র দেশে এই ধরণের কোর্স পরিচালনায় ব্রিটিএকে ম্যানেজ করতে হয়। ম্যানেজ না করলে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ফেল করা হতে পারে, যা কোর্সের সঙ্গে যুক্তদের সমস্যার সৃষ্টি করে।

সনি আরও জানান, এই ধরনের আর্থিক সংগ্রহের মাধ্যমে কোর্স শেষে একটি খাবার-দাওয়াতের ব্যবস্থা করা হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ ব্রিটিএয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাতে হস্তান্তর করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথা বহু বছর ধরে চালু রয়েছে।

বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অধীনে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং পাসের গ্যারান্টি দেওয়ার অভিযোগের ফলে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আওতায় রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

তদুপরি, দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলি এই অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ব্রিটিএয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা অভিযোগের যথাযথ তদন্তের গুরুত্ব স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে।

এই বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

অধিক তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায়, শিক্ষার্থীরা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার জন্য আশাবাদী।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments