28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের মন্তব্যে ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি বাধা দিচ্ছেন জেলেনস্কি বলে দাবি

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি বাধা দিচ্ছেন জেলেনস্কি বলে দাবি

ওভাল অফিসে রয়টার্সকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে ইউক্রেনের নেতৃত্বে অস্থিরতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় চার বছর ধরে চালু থাকা ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর জেলেনস্কি ও তার সরকার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য পশ্চিম ইউরোপের মিত্রদের অবস্থার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ, যারা ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার যুদ্ধবিরতির প্রতি অনাগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার শর্তে কোনো শান্তি চুক্তি সম্ভব নয় বলে দাবি করে আসছে, আর ট্রাম্পের মতে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই মূল বাধা।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম স্থলযুদ্ধের সমাধান এখনো না হওয়ায়, ট্রাম্প এক শব্দে জেলেনস্কিকে দোষারোপ করে বলেন, “জেলেনস্কি।” এই মন্তব্যে তিনি ইউক্রেনের নেতার প্রতি তার হতাশা প্রকাশ করেছেন, যদিও গত দুই বছরে দু’জনের সম্পর্কের ওঠাপড়া দেখা গেছে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর প্রথম সাক্ষাতে জেলেনস্কির ওপর তীব্র সমালোচনা করলেও, এখন তাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। তবুও, ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রতি নরম দৃষ্টিভঙ্গি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা পুতিনের কোনো চুক্তি স্বীকারের ইচ্ছাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনগুলোতে পুতিনের ইউক্রেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পূর্ব ইউরোপীয় অংশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা এখনও বিদ্যমান বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে, একই সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড পূর্বে এই দাবিগুলোকে অস্বীকার করে ছিলেন। এই পারস্পরিক বিরোধিতার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধের পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। তারা রাশিয়ার সম্ভাব্য পুনরায় আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে, ইউক্রেনকে তার পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল ত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাশিয়া আবার আক্রমণ না করতে পারে। দনবাসের অধিকাংশ অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এই চাপের ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথে প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় না হলে, চুক্তি স্বাক্ষরের পথে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং দনবাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments