হ্যাপি প্যাটেল খতর্নাক জাসুস চলচ্চিত্রটি ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পাবে এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) থেকে ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে। ছবির পরিচালক ভীর দাস এবং কাবি শাস্ত্রী, প্রযোজক গোষ্ঠীতে ভীর, কাবি, আমির খান এবং অপরনা পুরোহিত অন্তর্ভুক্ত। ছবির প্রধান ভূমিকায় ভীর দাসের পাশাপাশি মোনা এসের উপস্থিতি রয়েছে এবং আমির খানও প্রযোজক হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশেষ উপস্থিতি রেখেছেন।
ট্রেইলারটি তার অপ্রচলিত হিউমার ও রঙিন ভিজ্যুয়াল দিয়ে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ছবির কাস্টে কমেডি শিল্পী ভীর দাসের পাশাপাশি মোনা এসের পাশাপাশি কিছু পরিচিত মুখও দেখা যাবে, যা চলচ্চিত্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালক ভীর দাস সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ছবিটি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে, তবে সিএবিএফসি কিছু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত চারটি সংলাপের ক্ষেত্রে, যেখানে মূল সংলাপের বদলে সংক্ষিপ্ত ও উপযুক্ত এক-লাইন রূপান্তর করা হয়েছে। পরিবর্তিত সংলাপের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সিএবিএফসি কর্তৃক প্রকাশিত কাট লিস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
অতিরিক্তভাবে, ছবিতে ‘ব্রাউন’ শব্দটি সম্বলিত একটি দৃশ্যকে ৪৩ সেকেন্ডের মূল দৈর্ঘ্য থেকে ২১ সেকেন্ডের অনুমোদিত সংস্করণে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই দৃশ্যটি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে একটি নতুন ভিজ্যুয়াল যুক্ত করা হয়েছে, যা সিএবিএফসির নির্দেশনা মেনে তৈরি করা হয়েছে।
সিএবিএফসি ছবির মধ্যে থাকা অ্যালকোহল, তামাক ও ধূমপানের বিরোধী সতর্কতা বার্তাগুলোর ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে দর্শকের কাছে তা স্পষ্টভাবে পৌঁছায়। এই ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সাধারণত সিএবিএফসির ন্যূনতম সংশোধনী হিসেবে গণ্য হয়।
বিশেষ দৃষ্টিগোচর বিষয় হল, ছবিতে বেশ কিছু গালিগালাজের শব্দ ও অভদ্র বাক্যাংশ রয়েছে, যা সিএবিএফসি অনুমোদন করেছে। এ ধরনের অনুমোদনকে দীর্ঘ সময়ের পর সিএবিএফসির সবচেয়ে উদার পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ‘এ’ রেট থাকা সত্ত্বেও কিছু গালিগালাজের শব্দ মিউট করা হয়েছিল, যা এই ছবির ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাই হ্যাপি প্যাটেল খতর্নাক জাসুসের এই মুক্তি সিএবিএফসির নীতি পরিবর্তনের একটি সূচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সাধারণত পরীক্ষামূলক কমিটি (EC) চলচ্চিত্রে ব্যাপক কাটের সুপারিশ করে, ফলে নির্মাতারা পুনর্বিবেচনা কমিটিতে (RC) আবেদন করে কাটের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করে। তবে এই ছবিতে EC নিজেই সীমিত পরিবর্তনের সঙ্গে অনুমোদন প্রদান করেছে, যা পূর্বের প্রবণতার থেকে আলাদা।
সিএবিএফসির সার্টিফিকেশন সনদ ১৩ জানুয়ারি তারিখে নির্মাতাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। সনদে ছবির মোট দৈর্ঘ্য ১২১.৪২ মিনিট, অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালনা দায়িত্বে ভীর দাস এবং কাবি শাস্ত্রী যুক্ত, আর প্রযোজনা দলে ভীর, কাবি, আমির খান এবং অপরনা পুরোহিতের সমন্বয় রয়েছে। প্রধান চরিত্রে ভীর দাসের পাশাপাশি মোনা এসের উপস্থিতি, এবং আমির খানের বিশেষ উপস্থিতি ছবির আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
হ্যাপি প্যাটেল খতর্নাক জাসুসের মুক্তি দর্শকদের জন্য নতুন ধাঁচের কমেডি উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিএবিএফসির তুলনামূলকভাবে স্বল্প পরিবর্তন এবং গালিগালাজের শব্দের অনুমোদন চলচ্চিত্রের স্বতন্ত্র সুরকে আরও উন্মুক্ত করে তুলেছে। দর্শকরা আগামীকাল থেকে সিনেমা হলে এই রঙিন ও হাস্যকর গল্প উপভোগ করতে পারবেন।



