মরক্কোর শহরে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমি‑ফাইনালে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেনেগাল ১-০ গোলে মিশরকে পরাজিত করে ফাইনালের সিট নিশ্চিত করেছে। দুই দলই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে চেয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে সেনেগালের গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
সেনেগালের তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে মাত্র একবারের সুযোগে পার্থক্য গড়ে তুলেছেন। ৭৮তম মিনিটে তিনি গোলের জায়গা তৈরি করে শটটি নেটের পিছনে পাঠিয়ে দলকে জয় এনে দেন। এই গোলই ম্যাচের একমাত্র স্কোর হয়ে রয়ে যায়।
সেনেগাল এখন পর্যন্ত তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছেছে; প্রথমবার ২০১৯ সালে, দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে, যখন তারা প্রথম শিরোপা জিতেছিল। এইবারের ফাইনাল তাদের জন্য ২০২১ সালের বিজয়কে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেবে।
মিশর, যেটি পূর্ববর্তী এডিশনে শিরোপা জিতেছিল, তার রক্ষক হিসেবে প্রবল প্রত্যাশা ছিল। তবে মোহামেড সালাহ এবং ওমার মার্মাউশের উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা কোনো গোল করতে পারেনি। দুজনই মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।
ম্যাচে সেনেগালের পজেশন প্রায় ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা তাদের আক্রমণাত্মক আধিপত্যকে নির্দেশ করে। দলটি মোট ১২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মিশরের শট সংখ্যা মাত্র ৩, এবং কেবল একটি শটই দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।
গোলের মুহূর্তে সেনেগালের আক্রমণ দ্রুত এগিয়ে যায়। মানে পেনাল্টি এরিয়া থেকে শট নেয়ার আগে ডিফেন্সের কিছুটা ফাঁক ব্যবহার করে বলটি নেটের পিছনে পাঠায়। এই গোলই ম্যাচের একমাত্র স্কোর হয়ে রয়ে যায়।
সাদিও মানে সেনেগালের রেকর্ড স্কোরার, যিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১২৫ ম্যাচে ৫৩টি গোলের রেকর্ড রাখেন। এই টুর্নামেন্টে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন।
ম্যাচের শেষের দিকে, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মিশরের ওমার মার্মাউশের শট বক্সের বাইরে থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে সেনেগালের গোলরক্ষক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শটটি থামিয়ে দলকে অতিরিক্ত গোলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেন।
অন্য সেমি‑ফাইনালে, স্বাগতিক দেশ মরক্কো নাইজেরিয়াকে পরাজিত করে ফাইনালের আরেকটি সিট নিশ্চিত করে। দুই দলই এখন শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফাইনাল ম্যাচটি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সেনেগাল এবং মরক্কো মুখোমুখি হবে। উভয় দলই টুর্নামেন্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে, এবং ভক্তদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর সমাপনী ম্যাচের প্রত্যাশা থাকবে।
এই টুর্নামেন্টের পুরো সময়ে সেনেগালের দৃঢ় রক্ষণ ও আক্রমণাত্মক শৈলী তাদেরকে শীর্ষে নিয়ে এসেছে। মিশরের রক্ষার দুর্বলতা এবং শুটিং সুযোগের অভাবই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, সেনেগালের জয় তাদের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা এবং মানের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের ফল। ফাইনালে মরক্কোর সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তারা শিরোপা জয়ের শেষ ধাপটি অতিক্রম করবে।



