হোয়াইট হাউসে বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা গোষ্ঠী কোনো মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা না রাখলেও, ইরানের প্রতিবাদকারীদের ওপর হিংসাত্মক দমন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেয়া হয়নি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, “বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড কমে আসছে এবং কোনো ফাঁসির পরিকল্পনা নেই” এবং তিনি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার আশাও প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবাদগুলো দেরি ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানি মুদ্রার হঠাৎ পতনের ফলে শুরু হয়, যা দ্রুতই দেশের ধর্মীয় শাসনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিস্তৃত জনঅসন্তোষে রূপান্তরিত হয়।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দুজনেই কাতারের আল‑উদেইদ বিমানবেসে তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে নিচ্ছে; উভয় দেশের কর্মকর্তারা এটিকে “প্রতিবর্তনমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
কর্মী হ্রাসের ফলে উভয় দেশের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমবে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ দমনমূলক নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন।
ইরানের আকাশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল; রাতারাতি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইটগুলোকে ইরানের পার্শ্বে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তৎকালীন টেহরানের দূতাবাসকে সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়; দূতাবাসের কাজ এখন দূরবর্তীভাবে চালু রয়েছে।
ট্রাম্পের পূর্বের সতর্কবার্তা ছিল, যদি ইরান সত্যিই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত শক্তিশালী” পদক্ষেপ নেবে। এই সতর্কতা উঠে এসেছিল যখন ২৬ বছর বয়সী এক প্রতিবাদকারীকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
সেই প্রতিবাদকারী, এরফান সোলতানি, তেহরান থেকে পশ্চিমে অবস্থিত ফার্দিস শহরে পোশাকের দোকান চালাতেন; তাকে গত সপ্তাহে গ্রেফতার করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডের সময়সূচি বুধবার নির্ধারিত ছিল।
সোলতানির পরিবার জানায়, তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে, তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ থেকে তার মামলার বিষয়ে আর কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি, শুধুমাত্র তিনি প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও এই মৃত্যুদণ্ডের গুজবের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তবে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখে সামরিক বিকল্পের দরজা খোলা রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরে চলমান প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া দুটোই তেহরানের শাসনকে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।



