অস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ম্যাট ড্যামন সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ক্লিন্ট ইস্টউডের সঙ্গে তার প্রথম শ্যুটের স্মৃতি তাজা করেছেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইনভিকটাস’ ছবির সেটে ড্যামন প্রথমবারের মতো ইস্টউডের পরিচালনা শৈলীর মুখোমুখি হন। তিনি বলছেন, শুটিংয়ের প্রথম দিনেই পরিচালক সীমিত শটের নীতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‘ইনভিকটাস’ চলচ্চিত্রে ড্যামন দক্ষিণ আফ্রিকার রাগবি খেলোয়াড় ফ্রাঁসোয়া পিয়েনার চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ভূমিকায় সঠিক উচ্চারণ ও স্বরলিপি অর্জনের জন্য তিনি ছয় মাসের বেশি সময় ব্যয় করেন। সপ্তাহের পাঁচ দিন, সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত একটি বিশেষ ডায়ালেক্ট কোচের সঙ্গে অনুশীলন চালিয়ে তিনি চরিত্রের ভাষা শুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
ড্যামন শ্যুটের দিন যখন সেটে পৌঁছান, তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন এবং নিজের আইডিয়ার সঙ্গে দৃশ্যটি পুনরায় করতে চান। তবে ইস্টউডের শুটিং পদ্ধতি ছিল দ্রুত এবং কার্যকরী; তিনি একবারের শটে দৃশ্যটি শেষ করার ওপর জোর দেন। ড্যামন যখন অতিরিক্ত শটের অনুরোধ করেন, ইস্টউড সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে কি তিনি পুরো দলের সময় নষ্ট করতে চান।
ইস্টউডের এই সংক্ষিপ্ত উত্তর ড্যামনকে তৎক্ষণাৎ বুঝিয়ে দেয় যে শুটিংয়ে অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তি না করে কাজের গতি বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফলস্বরূপ, প্রথম শটই চূড়ান্ত রূপে ব্যবহার করা হয় এবং কোনো অতিরিক্ত শট নেওয়া হয় না। ড্যামন স্বীকার করেন, যদিও তিনি আরও একবার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন, তবে পরিচালককে মান্য করা শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
‘ইনভিকটাস’ ছবিতে ড্যামনের পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং তিনি সাপোর্টিং অ্যাক্টর ক্যাটেগরিতে অস্কার নোমিনেশন পান। এই স্বীকৃতি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। ছবির সাফল্য এবং ড্যামনের অভিনয় দুটোই ইস্টউডের কঠোর শুটিং নীতির ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ড্যামন পরবর্তীতে ইস্টউডের সঙ্গে ২০১০ সালের ‘হিয়ারআফটার’ ছবিতে আবার কাজ করেন। এই সহযোগিতা দেখায় যে প্রথম শ্যুটের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে পেশাদারী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ড্যামন উল্লেখ করেন, ইস্টউডের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি পরিচালককে ‘একজন দয়ালু মানুষ’ হিসেবে অনুভব করেছেন।
ইস্টউডের পরিচালনা শৈলীর মূল বৈশিষ্ট্য হল, তিনি দলের কাজের সীমা নির্ধারণে স্পষ্ট এবং কর্মীদের অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার চেষ্টা করেন। ড্যামন বলেন, ইস্টউডের টোনে কখনো কখনো কঠোরতা থাকলেও তার মধ্যে মানবিক দিকও রয়েছে, যা সেটে কাজের পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখে।
ড্যামন আরও উল্লেখ করেন, ইস্টউডের দৃষ্টিভঙ্গি হল, ক্রু সদস্যরা আপনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, তবে তা শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন আপনি প্রতিটি শটে অতিরিক্ত দাবি না করেন। এই নীতি অনুসরণ করে পুরো টিমের উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং শুটিং সময়সীমা কমে।
ড্যামনের মতে, ইস্টউডের ‘একবারের শট’ নীতি শুধু সময় সাশ্রয়ই করে না, বরং অভিনেতাদের স্বাভাবিকতা ও তাত্ক্ষণিকতা বজায় রাখে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি অভিনেতাকে মুহূর্তের অনুভূতি ধরতে সাহায্য করে, যা পর্দায় সত্যিকারের আবেগ প্রকাশে সহায়ক।
সারসংক্ষেপে, ড্যামনের শেয়ার করা অভিজ্ঞতা ইস্টউডের পরিচালনা শৈলীর কার্যকারিতা এবং সেটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে। যদিও প্রথমে ড্যামন অতিরিক্ত শটের জন্য অনুরোধ করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি পরিচালকের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন এবং ফলস্বরূপ একটি সফল চলচ্চিত্রের অংশ হন।
এই গল্পটি চলচ্চিত্র শিল্পে সময় ব্যবস্থাপনা এবং দলের সমন্বয়ের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়। পাঠকগণ যদি চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে শুটিংয়ের সময় পরিচালকের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান এবং দলের সহযোগিতা কীভাবে কাজের গুণগত মান বাড়ায়, তা অনুসন্ধান করা উপকারী হবে।



