20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাবিয়া ইসলাম সম্পা ফেসবুকে শহীদ শারিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে প্রশ্ন...

রাবিয়া ইসলাম সম্পা ফেসবুকে শহীদ শারিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে প্রশ্ন তুলেছেন

শহীদ শারিফ ওসমান হাদিরের স্ত্রী রাবিয়া ইসলাম সম্পা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ করে তার স্বামীর হত্যার মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক মন্তব্যের সৃষ্টি করে। রাবিয়া সম্পা, যিনি স্বামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, পোস্টে সরাসরি বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্পা পোস্টে উল্লেখ করেন, স্বামীর হত্যার মামলায় ন্যায়বিচার না হলে দেশের বিপ্লবী বীরদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে এবং এ ধরনের অনিচ্ছা ভবিষ্যতে নতুন কৃতিত্বের জন্ম দেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিচার অবশ্যই ঘটতে হবে, তা যেকোনো মূল্যে হোক। এই দাবি তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চলমান মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তার পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—ইনকিলাব মঞ্চের কোনো প্রোগ্রাম বা কার্যক্রমের ডাক শোনাচ্ছে না। রাবিয়া সম্পা উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের সক্রিয়তা এবং জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের অভাবের ফলে স্বামীর হত্যার মামলায় প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না। তিনি এই সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা সক্রিয়ভাবে ন্যায়বিচার দাবিতে অংশগ্রহণ করে।

রাবিয়া সম্পা স্বামীর পূর্বের একটি বক্তৃতার উল্লেখ করেন, যেখানে হাদির রবীন্দ্রনাথের দুইটি লাইন উদ্ধৃত করে সহজ কথার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাদিরের ঐ বক্তৃতা থেকে প্রাপ্ত মূল বার্তা হল, সহজ কথার মাধ্যমে জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়, এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা দরকার।

পোস্টে রাবিয়া সম্পা হাদিরের সংগ্রামের দীর্ঘায়ু এবং মুমিনের জীবনকে সংগ্রামের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বামীর মত বিপ্লবী ব্যক্তিরা যদি তাদের সংগ্রাম চালিয়ে না যায়, তবে সমাজের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

রাবিয়া সম্পা হাদিরের কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি নিজের প্রথম সন্তানকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এবং দ্বিতীয় সন্তানকে ‘ফিরনাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই দুই সংগঠন যথেষ্ট আর্থিক সহায়তা পায় না, ফলে তাদের কর্মীদের মৌলিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই তথ্য থেকে দেখা যায়, হাদিরের মতে, সংগঠনগুলোর স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও কর্মীদের কল্যাণের অভাব তার মূল উদ্বেগের বিষয়।

সম্পা পোস্টে হাদিরের সম্ভাব্য একটি বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের নিয়ে আলোচনা না করা’ হলে তিনি তা সহ্য করতে পারবেন না বলে প্রকাশ করেন। তিনি দাসত্বকে জাতির নির্দিষ্ট ভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করে, সংগ্রামকে সর্বোচ্চ উপাসনা হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে সমাপ্তি টানেন। এই বক্তব্যগুলো হাদিরের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শকে স্পষ্ট করে।

এই পোস্টের প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাবিয়া সম্পার এই ধরনের জনমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি স্বামীর হত্যার মামলায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তারা তর্ক করেন, সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করা হলে সরকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা সম্ভব। তবে বিশ্লেষকরা এও জানান, ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

রাবিয়া সম্পা পোস্টে শেষ করে বলেন, স্বামীর হত্যার মামলায় সঠিক বিচার না হলে দেশের বিপ্লবী বীরদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো ইতিবাচক উদাহরণ থাকবে না। তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। পোস্টটি এখনো সক্রিয়ভাবে শেয়ার ও মন্তব্যের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এই দাবি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments