মাদারীপুরের দাসার উপজেলায় ১৪ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় জমি ও আধিপত্য সংক্রান্ত বিরোধের ফলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ১৩টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের মধ্যে ৪৭ বছর বয়সী আব্বাস চৌধুরী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরবর্তীতে উন্নত সেবার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে খাতিয়াল এলাকায় আব্বাস চৌধুরী ও আবুল জমাদ্দার পরিবারের মধ্যে জমি দখল ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের ধারাবাহিকতা দুই দিন আগে থেকেই দেখা গিয়েছিল, যখন উভয় পক্ষের মধ্যে চঞ্চল ধাওয়া-দৌড়ের ঘটনা ঘটেছিল।
বিকালবেলায় উভয় দল দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর গুলি চালায়। গুলির পাশাপাশি হাতবোমা বিস্ফোরণ এবং তাড়া-ধাওয়া দৃশ্যমান হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আব্বাস চৌধুরী একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আঘাত করে, যা পরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়া খবরের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ায়।
আব্বাসের পরিবার ও সমর্থকরা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আবুল জমাদ্দার ও তার আত্মীয়দের বাড়ি ও বসতঘরে আক্রমণ চালায়। এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের মোট ১৩টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় উভয় দিকের কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়।
বেল্লাল জমাদ্দার জানান, বাড়ি ও সম্পত্তি নষ্ট হওয়ায় তাদের কোনো সামগ্রী সংরক্ষণ করার সুযোগ পাননি। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারে মোট ১৩টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনার ন্যায়সঙ্গত বিচার চেয়েছেন।
অপরাধ ও অনুসন্ধান বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের মতে, এই ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী জমি ও আধিপত্য বিরোধের পরিণতি। দুই দিন আগে ধাওয়া-দৌড়ের ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছিল, যা আজকের বিশাল অগ্নিকাণ্ডের পূর্বাভাস দেয়। বর্তমানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



