28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমিয়ানমার রাখাইন সংঘাতে জাঁতা সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস, বাংলাদেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

মিয়ানমার রাখাইন সংঘাতে জাঁতা সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস, বাংলাদেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মিয়ানমার রাখাইন (পূর্বে আরাকান) অঞ্চলে নতুন মাত্রার সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছে, যেখানে আরাকান আর্মি (AA) জাঁতা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি শহর দখল করেছে। এই আক্রমণ সীমান্তের নিকটবর্তী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রাখাইন historically আরাকান নামে পরিচিত, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ ও বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানের জন্য মিয়ানমার কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলটি জাতিগত সংঘাত ও সশস্ত্র বিদ্রোহের ময়দানে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ থেকে আরাকান আর্মি ধারাবাহিকভাবে জাঁতা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নগর ও গ্রাম দখল করে, ফলে জাঁতা বাহিনীর সামরিক ভারসাম্য ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। AA-র দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয় প্রতিরোধের অভাবের ফলে সহজে সম্ভব হয়েছে, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করেছে।

বহু বছর আগে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে জাঁতা সরকার দ্বারা জাতিগত নির্মূলের অভিযোগে দেশান্তর করা হয়, ফলে রাহাইন অঞ্চলে জনসংখ্যার শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতা আরাকান আর্মির জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করেছে, এবং এখন তারা পুরো অঞ্চলকে কার্যকরভাবে নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি (বর্ডার গার্ড) থেকে ৩৩০ জন সদস্য বাংলাদেশে পলায়ন করে, যা সীমান্তে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই পলায়ন ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয়।

বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এই সীমান্তে শরণার্থী ও অস্ত্রশস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহের ঝুঁকি বাড়ার ফলে বাংলাদেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্রতর হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও অস্ত্র পাচার রোধে অতিরিক্ত গশ্বর ও নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন দাবি করে এবং ASEAN ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি বিশেষ সেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, রাখাইন সংঘাতের প্রভাব শুধুমাত্র মিয়ানমার সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন সিলেক্টেড সশস্ত্র সংঘাতের উদাহরণে দেখা যায়। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে মিয়ানমার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আসন্ন মাসগুলোতে মিয়ানমার জাঁতা সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে সম্ভাব্য শর্তসাপেক্ষ চুক্তি আলোচনা শুরু হতে পারে, এবং জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাসের কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রাখাইন অঞ্চলে আরাকান আর্মির তীব্র আক্রমণ জাঁতা সরকারের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করেছে এবং বাংলাদেশে সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী প্রবাহের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান কঠিন বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments