ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় মেয়াদে এক বছর পার হওয়ার পর, বিশ্বব্যাপী শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তিনি জানুয়ারি ৩ তারিখে ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর সামরিক আক্রমণ আদেশ দেন, যার ফলে ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই পদক্ষেপটি পোস্ট-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা আক্রমণের পর থেকে ট্রাম্পের নীতি আরও আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। তিনি ন্যাটো সহযোগী ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের দাবি উত্থাপন করেন এবং ইরানের ধর্মীয় শাসনকে কঠোরভাবে দমন করা প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ হুমকি দেন। এই উভয় দাবিই যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক পদ্ধতির থেকে বিচ্যুতি নির্দেশ করে।
কোলোম্বিয়া ও মেক্সিকোর সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও ট্রাম্পের মুখে উঠে আসে। তবে উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পর তিনি এই পরিকল্পনা থেকে সরে যান, যা তার সমর্থকরা কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে ফলপ্রসূ ফলাফল অর্জনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কেও ট্রাম্পের নীতি তীব্র পরিবর্তন দেখায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বহু জাতিসংঘ সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও উল্লেখ করেন যে, এই সংস্থাগুলি এখন একটি গ্লোবালিস্ট প্রকল্পের অংশ, যা শীতল যুদ্ধের পরের স্থিতিশীল বিশ্বদৃষ্টিকে আর্থিক স্বার্থের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করে।
দেশীয় নীতিতে ট্রাম্পের প্রভাবও স্পষ্ট। উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রশাসন মিনিয়াপোলিসে একটি মাস্কধারী অভিবাসন বিরোধী এজেন্টের গাড়ি চালককে গুলি করে হত্যা করার পর কোনো আনুষ্ঠানিক সমবেদনা প্রকাশ না করে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়। এই পদক্ষেপটি অভিবাসন নীতি ও জননিরাপত্তা ক্ষেত্রে কঠোর রূপরেখা নির্দেশ করে।
সফটওয়্যার নীতি ও বিদেশি বিষয়ক কৌশলে স্টিফেন মিলার, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ, আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারকে অতিক্রম করে বাস্তবিক শক্তি ব্যবহার করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য রূপকথা নয়, বাস্তবিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
এই ধারাবাহিক নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে একা পথে চালিত করার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির পুনর্বিবেচনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি যদি ধারাবাহিক থাকে, তবে বিশ্ব শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হতে পারে।



