অভিনেতা ম্যাটিউ ম্যাককনাহে তার চেহারা ও কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার রোধে ট্রেডমার্ক আবেদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস (USPTO) এখন পর্যন্ত আটটি আবেদন অনুমোদন করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল তার পরিচিত চিত্র ও স্বরকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা কোম্পানিগুলোর থেকে রক্ষা করা।
আবেদনকৃত ট্রেডমার্কগুলো নির্দিষ্ট ভিডিও ও অডিও ক্লিপের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে ম্যাককনাহে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসছেন বা কথা বলছেন। একটি ভিডিওতে তিনি একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন, আর অন্য একটি অডিওতে তিনি তার বিখ্যাত বাক্য “আলরাইট, আলরাইট, আলরাইট” উচ্চারণ করছেন, যা ১৯৯৩ সালের ‘ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড’ ছবিতে জনপ্রিয় হয়েছিল।
বর্তমান কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া অন্যের চেহারা ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে পারে না। তবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক বা ভয়েস সিমুলেশন ক্ষেত্রে আইনগত সীমা এখনও পরিষ্কার নয়, বিশেষ করে যখন তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
ম্যাককনাহের আইনজীবী কেভিন ইয়র্ন উল্লেখ করেছেন, আদালতে এই ধরনের ট্রেডমার্ক চ্যালেঞ্জের ফলাফল অনিশ্চিত, তবে মামলা করার হুমকি এআই কোম্পানিগুলোকে তার চিত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে পারে। তিনি আরও বলছেন, ট্রেডমার্কের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে চান যে কোন নির্দিষ্ট ভিডিও ও অডিও ক্লিপের ব্যবহার অনুমোদিত হবে এবং কোনটি নিষিদ্ধ।
এই পদক্ষেপটি শিল্পের মধ্যে একটি নতুন প্রবণতা নির্দেশ করে, যেখানে অনেক অভিনেতা ও সেলিব্রিটি এআই দ্বারা তাদের চেহারা নকল হওয়া থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হয়েছে, এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেলিব্রিটিদের মুখ ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ভিডিও, গেম ও বিজ্ঞাপন তৈরি করা হচ্ছে।
কিছু কোম্পানি অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করে, যা শিল্পের জন্য আর্থিক ক্ষতি এবং সুনামগত ক্ষতি উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে। ট্রেডমার্কের মাধ্যমে ম্যাককনাহ তার নিজস্ব চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চান, যাতে কোনো তৃতীয় পক্ষ তার স্বীকৃত চেহারা বা স্বর ব্যবহার করে লাভ না করতে পারে।
ম্যাককনাহের এই উদ্যোগের ফলে অন্যান্য শিল্পকর্মী ও সৃজনশীল পেশাজীবীরা নিজেদের সুরক্ষা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারেন, বিশেষ করে যখন এআই ভিত্তিক সেবা ও পণ্য বাজারে বাড়ছে। ট্রেডমার্কের আবেদন প্রক্রিয়া যদিও সময়সাপেক্ষ, তবে অনুমোদিত হলে তা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, যা লঙ্ঘনকারীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
এআই-সৃষ্ট কন্টেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে আদালত কীভাবে রায় দেবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ম্যাককনাহের পদক্ষেপ একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সেলিব্রিটি তাদের চিত্র রক্ষার জন্য ট্রেডমার্ক, কপিরাইট বা অন্যান্য আইনি সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন।
এই প্রেক্ষাপটে শিল্প সংস্থাগুলোও এআই ব্যবহারের নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, যাতে সৃজনশীল কাজের স্বত্ব রক্ষা পায় এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে বাধা না দেয়।
ম্যাককনাহের ট্রেডমার্ক আবেদনগুলো ইতিমধ্যে মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং এআই শিল্পে স্বত্ব রক্ষার নতুন মানদণ্ড স্থাপনের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তার এই সক্রিয় পদক্ষেপ শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ম্যাটিউ ম্যাককনাহে তার চেহারা ও স্বরকে এআই-ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে রক্ষা করতে ট্রেডমার্কের মাধ্যমে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন, যা শিল্পে অনুরূপ পদক্ষেপের পথপ্রদর্শক হতে পারে।



