এই শরতে টিমোথি চালামেট এ২৪-র মার্কেটিং দলকে একটি জুম সেশনে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার নতুন স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘মার্টি সুপ্রিম’ প্রচারের কৌশল উপস্থাপন করেন। চলচ্চিত্রটি ১৯৫০‑এর দশকের একটি হাস্টলারকে কেন্দ্র করে, যিনি বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন হতে সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত। চালামেটের উপস্থিতি এবং তার ধারণা শেয়ার করা এই ধরনের স্বতন্ত্র প্রকল্পের জন্য বিরল সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
‘মার্টি সুপ্রিম’ একটি স্বতন্ত্র ইনডি ফিল্ম, যেখানে প্রধান চরিত্র মার্টি মাউসার অরেঞ্জ রঙের পিং পং বল ব্যবহার করে নিজের স্বপ্নের পথে অগ্রসর হয়। চলচ্চিত্রের গল্প ও শৈলীর বৈশিষ্ট্যকে বাজারে তুলে ধরার জন্য চালামেট মার্কেটিং টিমকে তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রচারাভিযানটি পরিকল্পিত, অবিচল এবং আক্রমণাত্মক হতে হবে, যাতে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়।
চালামেটের মতে, এই বছর পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে এই চলচ্চিত্রের প্রচার। তিনি টিমের সঙ্গে ভাগ করে নেন যে, সফল ক্যাম্পেইনের মূল চাবিকাঠি হল স্পষ্ট লক্ষ্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। তার এই উত্সাহে উপস্থিত মার্কেটাররা উৎসাহিত হন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সেশন চলাকালীন চালামেট সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্প্রতিক মার্কেটিং ক্যাম্পেইন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। কোনো উত্তর না পেয়ে তিনি নিজে থেকেই ‘বার্বি’ চলচ্চিত্রের গোলাপি থিমযুক্ত প্রচারকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি এই উদাহরণ থেকে শিখে নিজের চলচ্চিত্রের জন্য একটি স্বতন্ত্র রঙের ধারণা তৈরি করতে চান।
‘মার্টি সুপ্রিম’এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অরেঞ্জ রঙকে প্রধান থিম হিসেবে বেছে নেওয়া চালামেটের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরাসরি অরেঞ্জ ব্যবহার করলে ‘বার্বি’র রঙিন কৌশলকে অনুকরণ করার ঝুঁকি থাকে, যা তিনি এড়াতে চান। তাই তিনি একটি ভিন্ন রঙের বিকল্প খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন।
একজন ডিজাইনারের সঙ্গে পরামর্শের পরে চালামেটকে একটি বিশেষ অরেঞ্জ শেড দেখানো হয়, যা ছয় মাসের গবেষণার ফল। তিনি এই রঙকে ‘ক্ষয়প্রাপ্ত, পচে যাওয়া এবং জংধরা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা চলচ্চিত্রের কাঁচা ও রুক্ষ স্বভাবকে প্রতিফলিত করে। এই অনন্য শেডটি ক্যাম্পেইনের ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
রঙের পাশাপাশি চালামেট অরেঞ্জ বেলুনের ব্যবহার প্রস্তাব করেন। তিনি এক বা একাধিক বেলুনকে দেশের বিভিন্ন স্থানে উড়িয়ে ‘মার্টি সুপ্রিম…ড্রিম বিগ’ স্লোগানটি প্রচার করার ধারণা দেন। এই পদ্ধতি দর্শকের দৃষ্টিতে সরাসরি পৌঁছাবে এবং চলচ্চিত্রের থিমকে উঁচুতে তুলে ধরবে।
এ২৪-র একজন নির্বাহী এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন, তবে বেলুনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা, হিনডেনবার্গের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে বেলুনের মূল উদ্ভাবক জার্মানি, তাই এই সংযোগকে যথাযথভাবে পরিচালনা করলে নেতিবাচক ধারণা এড়ানো সম্ভব। এই আলোচনায় উভয় পক্ষই সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন।
চালামেটের উত্তেজনা বাড়ে যখন তিনি বেলুনকে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে লস এঞ্জেলেসে শেষ করার পরিকল্পনা করেন। তিনি কল্পনা করেন যে, বেলুনের যাত্রা নিজেই একটি চলমান বিজ্ঞাপন হয়ে উঠবে, যা মানুষকে চলচ্চিত্রের গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই কৌশলটি স্বতন্ত্র এবং বৃহৎ পরিসরে দৃষ্টিগোচর হতে পারে।
মার্কেটিং টিমের সঙ্গে এই সেশনটি চালামেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এতে তিনি নিজের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি বাস্তবায়নের পথে নিয়ে গেছেন। অরেঞ্জ থিমের সূক্ষ্ম পরিবর্তন, বেলুনের ব্যবহার এবং সাহসী স্লোগান—all together—একটি নতুন ধরনের ইনডি চলচ্চিত্রের প্রচার কৌশল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
‘মার্টি সুপ্রিম’এর মুক্তি আসন্ন, এবং এ২৪-র সঙ্গে চালামেটের এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রের সাফল্যের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই ধরনের উদ্ভাবনী প্রচারাভিযান ভবিষ্যতে অন্যান্য স্বাধীন প্রকল্পের জন্য রেফারেন্স হতে পারে। চলচ্চিত্রটি দর্শকের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই কৌশলগুলো কীভাবে ফলপ্রসূ হয়, তা সময়ই বলবে।



