যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ, রাশিয়া এবং আরও ৭৩টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ঐ দেশগুলোর নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভিসা প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তাদের আবেদন স্থগিত হবে এবং নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির সামগ্রিক পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ার গতি ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য সাময়িকভাবে এই ৭৫টি দেশের আবেদন বন্ধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। ইতিমধ্যে ভিসা আবেদন জমা থাকা প্রার্থীরা নতুন নির্দেশনা পাবেন এবং তাদের ফাইলগুলো পর্যালোচনা করা হবে, তবে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এই নীতি পরিবর্তনটি ১৪ জানুয়ারি রাতে প্রকাশিত হয় এবং ১৫ জানুয়ারি রাত ১:৩৯ টায় আপডেট করা হয়েছে। আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ওপর প্রযোজ্য, পর্যটক, ব্যবসায়িক বা ছাত্র ভিসার ওপর প্রভাব ফেলবে না। তাই ভ্রমণ, ব্যবসা বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নাগরিকদের জন্য বর্তমান ভিসা নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, যখন নির্দিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অভিবাসন প্রবাহে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়। এই ধরনের সাময়িক বন্ধের মাধ্যমে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় বলে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে মন্তব্য করেনি, তবে আশা করা যায় যে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রভাবিত আবেদনকারীদের জন্য উপযুক্ত সমাধান বের করা হবে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যদি নিরাপত্তা ও অভিবাসন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এখনো অপেক্ষা করা কঠিন, এবং নতুন নির্দেশনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়ার পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।



