গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ ২০২৬ ও গ্যাপএক্সপো ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ শিল্পকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জনের সম্ভাবনা দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি নীতি দিক থেকে যথাযথ সহায়তা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
চৌধুরী বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাত ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একই রকম রপ্তানি লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে; তাই প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ সেক্টরকেও সমান গুরুত্ব ও নীতিগত সমর্থন দরকার। সঠিক নীতি ও প্রণোদনা পেলে এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করে সমান মাত্রার রপ্তানি আয় অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, জটিল নীতিমালা এবং আমলাতান্ত্রিক বাধা প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে বাধা দিচ্ছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামো মুক্ত প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা উচিত।
বিএনপি দলের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। চৌধুরীর মতে, ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়লে তারা সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের বড় প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ কনফেডারেশন অফ ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড এক্সপোর্টার্স (BKMEA) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশের অ্যাকসেসরিজ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশীয় অ্যাকসেসরিজ উৎপাদন স্থানীয় পোশাক কারখানার চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম এবং আমদানি নিরুৎসাহের জন্য কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন অফ প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (BAPME) সভাপতি মো. শাহরিয়ার উল্লেখ করেন, নীতিগত সহায়তা ও নগদ প্রণোদনার অভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্যাকেজিং বাজারের বড় অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই সেক্টরের সরাসরি রপ্তানি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার, আর পরোক্ষ রপ্তানি ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তবু কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।
শাহরিয়ার চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সহ অন্যান্য এশীয় দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলো প্যাকেজিং ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের শেয়ার বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি জোর দেন, যদি সরকার নীতি দিক থেকে সমর্থন বাড়ায় এবং শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে, তবে বাংলাদেশও এই প্রতিযোগিতায় নিজস্ব স্থান সুনিশ্চিত করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা দেখছেন, প্যাকেজিং শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য মূল চাবিকাঠি হল প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ, মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সার্টিফিকেশন। এছাড়া, রপ্তানি-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, রপ্তানি বীমা এবং বাজার গবেষণার সুবিধা প্রদান করলে রপ্তানি পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, প্যাকেজিং শিল্পের জন্য বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে থাকবে, বিশেষ করে ই-কমার্স, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, যদি নীতি দিক থেকে অপ্রয়োজনীয় বাধা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তবে শিল্পের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার হ্রাস পাবে।
সারসংক্ষেপে, প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা বিশাল, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারী নীতি, আর্থিক প্রণোদনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠন অপরিহার্য। সঠিক পদক্ষেপ নিলে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।



