গোল্ডি হন এবং তার মেয়ে কেট হাডসন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলেসের দ্য গ্রোভ শপিং সেন্টারে একসাথে চলচ্চিত্র ‘সঙ সঙ ব্লু’‑এর পর একটি বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন। দুজনই মায়ের‑কন্যার নৈশভোজে উপস্থিত হয়ে ছবির পারফরম্যান্স, পারিবারিক সম্পর্ক এবং হলিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মত বিনিময় করেন। এই অনুষ্ঠানটি শিল্পপ্রেমী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং মিডিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়।
দ্য গ্রোভের একটি বড় হলের মঞ্চে হন ও হাডসন প্রায় অর্ধ ঘন্টার কথোপকথন চালিয়ে যান। হন প্রথমে দর্শকদের জানিয়ে দেন যে তিনি ও স্বামী কার্ট রাসেল প্রথমবার ছবিটি দেখার সময় একে অপরের হাত ধরেই কাঁদে ফেলেছিলেন। তিনি যোগ করেন, ছবির আবেগময় মুহূর্তে রাসেলও টয়লেট থেকে ফিরে এসে নিজের চোখে অশ্রু ঝরিয়ে দেখিয়েছিলেন।
রাসেল হডসনের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে বলেন, তিনি হয়তো সর্বকালের সেরা অভিনেত্রী হতে পারেন। এই মন্তব্যের পর হন হাস্যরসের ছলে বলেন, এই মুহূর্তে দুজনের মধ্যে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের সঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। হাডসন এই কথায় উত্তর দিয়ে বলেন, “ধন্যবাদ, মা, আপনার সাহায্যই আমাদের সম্পর্ককে মজবুত করে।” হন তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, “তোমারই সাহায্যে আমাদের বিবাহের সাফল্য বজায় আছে।”
চলচ্চিত্রের কাহিনী সম্পর্কে হাডসন সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন। ছবিতে তিনি এবং হিউ জ্যাকম্যান দুজনই দারিদ্র্যপূর্ণ পারফরমার, যারা একসাথে নিল ডায়মন্ডের গানের কভার ব্যান্ড গঠন করে এবং প্রেমে পড়ে। জ্যাকম্যানের চরিত্র হাডসনের সন্তানদের স্টেপফাদার হয়ে ওঠে, যা হাডসনের নিজের পারিবারিক জীবনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হাডসন বলেন, এই গল্পটি তাদের জন্য খুবই পরিচিত, কারণ তার মা-দাদা কার্ট রাসেল তার দু’টি সন্তান জন্মের পরই তার জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি যোগ করেন, রাসেল তার জীবনে এসে পুরো পরিবারকে একত্রিত করার কাজটি করেছেন, যা তিনি “একটি নায়কীয় কাজ” বলে উল্লেখ করেন। হনও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে বলেন, একজন স্বামীকে পরিবারে যুক্ত করা সত্যিই গৌরবময়।
আলোচনার একটি অংশে হাডসন হনের সন্তানদের বড় করার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হন তার সন্তানদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও শিল্পের প্রতি সম্মান গড়ে তোলার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করেছেন। হন ব্যাখ্যা করেন, যদিও বাইরের দৃষ্টিতে তাদের পিতামাতার পদ্ধতি সহজ মনে হতে পারে, প্রকৃতপক্ষে তারা সন্তানদেরকে একটি পেশা হিসেবে শিল্পকে গুরুত্ব দিতে শিখিয়েছেন।
এই শৃঙ্খলা হাডসনের নিজস্ব শৈশবের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে তিনি নাচ, থিয়েটার এবং সঙ্গীতের ক্লাসে নিয়মিত অংশ নিতেন। তিনি বলেন, এই পরিবেশই তাকে শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। হাডসন বর্তমানে বিভিন্ন পুরস্কার ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত, তবু তিনি হনের সঙ্গে হলিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
হন হলিউডের পরিবর্তনশীল দৃশ্যপটের ওপর তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের সময়ে সত্যিকারের সিনেমা তারকা কমে গেছেন এবং শিল্পে সত্যিকারের প্রতিভা কমে গিয়ে গেছে। হন বলেন, কেট হাডসন এখনো সেই কয়েকজনের মধ্যে একজন, যাকে তিনি “প্রকৃত সিনেমা তারকা” বলে গণ্য করেন।
হাডসন এই প্রশংসা গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি সবসময় নিজের কাজের মাধ্যমে শিল্পের মান বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে এমন আরও প্রকল্পে কাজ করতে চান, যেখানে শিল্পের মূল মানকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা যায়।
দুইজনের কথোপকথন শেষের দিকে হালকা মেজাজে চলে আসে, যেখানে তারা পারিবারিক জীবনের ছোট ছোট মজার মুহূর্তগুলো নিয়ে হাসি-তামাশা করেন। হন এবং হাডসন উভয়েই সম্মত হন যে পারিবারিক সমর্থন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া তাদের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে।
এই ইভেন্টের মাধ্যমে দর্শকরা কেবল একটি চলচ্চিত্রের পর্যালোচনা নয়, বরং একটি পরিবারিক বন্ধনের গভীরতা এবং হলিউডের পরিবর্তনশীল রূপকেও অনুভব করতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে হাডসন আরও কিছু পুরস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আর হন তার স্বামী কার্ট রাসেলের সঙ্গে আরও সিনেমা দেখতে চান।
সারসংক্ষেপে, গোল্ডি হন এবং কেট হাডসনের এই মাদার‑ডটার নৈশভোজটি শিল্প, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং হলিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক সমৃদ্ধ আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের সংলাপ দর্শকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



