মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমির নেমেগত গঠনে ১৯৭৯ সালে আবিষ্কৃত একটি প্রায় ৬৭ মিলিয়ন বছর পুরনো ডাইনোর অঙ্গভঙ্গি ও নখের বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, এই ছোট ডাইনোরা সম্ভবত ডিম শিকারের জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত ছিল। গবেষকরা এই অঙ্গটি নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করে, যার বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্বের আলভারেজসাউরিড পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা।
অংশটি রাশিয়ার জুওলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। গবেষণায় এক্স-রে স্ক্যানের মাধ্যমে অঙ্গের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে প্রথম আঙুলের আকার ও নখের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই নখটি বড় এবং তীক্ষ্ণ, যা ডিমের খোলস ভেদ করার জন্য উপযোগী বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আলভারেজসাউরিড পরিবারে সাধারণত ছোট, শক্তিশালী অঙ্গ ও লম্বা পা দেখা যায়, এবং তাদের দৈর্ঘ্য ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ২ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই নতুন উদাহরণটি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা বলে ধারণা করা হয়, যা পরিবারে সবচেয়ে ছোট সদস্যের কাছাকাছি। পূর্বে এই গোষ্ঠীর ডাইনোরা মূলত কীটপতঙ্গ, বিশেষ করে টার্মাইটের উপর নির্ভরশীল বলে ধরা হতো; তবে নতুন বিশ্লেষণ দেখায় যে তারা ডিম শিকারের সম্ভাবনা বেশি।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অঙ্গের প্রথম আঙুলটি তুলনামূলকভাবে বড়, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুলগুলো ক্ষুদ্র। এই গঠনটি ডিমের ভেতরে পৌঁছানোর জন্য যথাযথ শক্তি ও নকশা প্রদান করে। একই সঙ্গে, অঙ্গের হাড়ের গঠন ও পেশীর সংযুক্তি এমনভাবে সাজানো যে, নখটি দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে আঘাত করতে পারে।
একজন প্যালিওন্টোলজিস্টের মতে, এই অঙ্গটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সম্পূর্ণ এবং অস্বাভাবিক ডাইনোর হাতের উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে জানা অঙ্গগুলোর তুলনায় এইটি আরও জটিল ও বিশেষায়িত, যা ডাইনোর খাদ্যাভ্যাসে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করে। অন্য একটি প্যালিওবায়োলজিস্টের মন্তব্যে দেখা যায়, এই ধরনের নখের উপস্থিতি মাংসাশী ডাইনোর জন্য অস্বাভাবিক, এবং এটি ডিম শিকারের জন্য একটি নতুন অভিযোজনের ইঙ্গিত দেয়।
এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের মধ্যে ডাইনোর বিবর্তনীয় পথ সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে, কীভাবে ছোট অঙ্গ ও শক্তিশালী নখের সমন্বয় ডাইনোরা তাদের পরিবেশে নতুন খাবার উৎসের সন্ধান পেয়েছে, তা এখন গবেষণার বিষয়। ভবিষ্যতে আরও ফসিলের বিশ্লেষণ ও তুলনা করে এই গোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসের বিবর্তন আরও স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।
অবশেষে, এই গবেষণা সপ্তাহের বৈজ্ঞানিক সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। ডাইনোরা কীভাবে তাদের অঙ্গের গঠন পরিবর্তন করে নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে, তা বোঝা আমাদের প্রাচীন পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গভীরতর ধারণা প্রদান করে।
আপনার মতে, ডাইনোরা কি শুধুমাত্র ডিম শিকারের মাধ্যমেই তাদের বেঁচে থাকার কৌশল গড়ে তুলতে পারত, নাকি অন্যান্য খাবারও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও স্পষ্ট হবে।



