27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানে প্রতিবাদে নিহতের স্বামী এক ঘন্টার বেশি স্ত্রীর দেহ বহন

ইরানে প্রতিবাদে নিহতের স্বামী এক ঘন্টার বেশি স্ত্রীর দেহ বহন

৮ জানুয়ারি তেহরানের এক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে রেজা তার স্ত্রী মেরিয়ামের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পথে মেরিয়াম গুলিতে গুলি হয়ে প্রাণ হারান, আর রেজা এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে তার দেহ বহন করে চলেন।

মেরিয়ামকে গুলি করে যে বুলেট আঘাত করেছে তা কোথা থেকে এসেছে তা রেজা ও তার পরিবার জানেন না। গুলির পর তিনি স্ত্রীর দেহকে হাতে তুলে, ক্লান্ত হয়ে একটি গলিতে বসে বিশ্রাম নেন। কিছুক্ষণ পর কাছের বাড়ির দরজা খুলে যায়, সেখানে বসবাসকারী লোকজন দেহটি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে সাদা চাদরে মোড়িয়ে দেন।

মেরিয়াম প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আগে তার দুই সন্তান, সাত ও চৌদ্দ বছর বয়সী,কে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে ছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, “কখনও কখনও বাবা-মা প্রতিবাদে গিয়ে ফিরে না আসতে পারে, আমাদের রক্ত অন্যের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়।” এই কথাগুলো তার শেষ কথার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সুরক্ষা ও গোপনীয়তার কারণে রেজা ও মেরিয়ামের প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের কাহিনী শুধুমাত্র নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত করা হয়েছে।

মেরিয়ামের মতো হাজার হাজার প্রতিবাদকারী এখনো বাড়ি ফেরেনি; নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে বহু মানুষ নিখোঁজ। সরকারী সূত্রে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় মিডিয়া জানায় প্রায় ১০০জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে।

ইরানীয় মানবাধিকার সংস্থা HRANA গত তিন সপ্তাহে অন্তত ২,৪০০ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত। এই সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে, কারণ দেশটি বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য 현장 তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে বেসিক তথ্যের যাচাই ও আপডেট করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিবিধ সূত্রের অভাবে, বেসামরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সীমিত তথ্য পেতে পারছেন। তবু, প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও তাদের পরিবারগুলো শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বেঁচে আছে।

সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রতিবাদকারীদেরকে “দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী” হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে এবং কিছু প্রতিবাদকারীকে মসজিদ ও ব্যাংক পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা কঠিন।

অবস্থা এখনও অস্থির, এবং আগামী দিনগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ এই সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments