বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বুধবার ব্যায়ারার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস) ২০২৬‑২০২৮ সময়ের জন্য নির্ধারিত দ্বি‑বার্ষিক নির্বাহী কমিটি নির্বাচনের অনুমোদন জানায়। অনুমোদন পত্রে ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ মনির হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং নির্বাচনটি ১৭ জানুয়ারি, সেলিব্রিটি হল, বাংলাদেশ‑চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশন এই অনুমোদনকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে প্রদান করেছে। নির্বাচনী কোডের বিধান অনুসরণ না করলে অনুমোদন বাতিলের সম্ভাবনা থাকবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আগে, ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সকল পেশাগত সংস্থা ও সংগঠনের নির্বাচনকে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে স্থগিত করার নির্দেশ জারি করেছিল। ঐ নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা, যাতে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকে।
নির্দেশটি ৩৮টি সরকারি সংস্থাকে প্রেরণ করা হয়, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট পেশাগত গোষ্ঠীর নির্বাচন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করে। এই পদক্ষেপকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা বজায় রাখার একটি প্রাকটিক্যাল ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
বায়ারার জন্য এই বিশেষ অনুমোদনকে কিছু বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা উল্লেখ করে যে, একদিকে পেশাগত সংস্থার নির্বাচন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে একটি সংস্থার জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা নীতিগত সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তুলতে পারে।
বায়ারার তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে জানিয়েছে যে, এই নির্বাচন তাদের সংস্থার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য এবং নির্বাচনী কোডের শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, এই অনুমোদন তাদের সদস্যদের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে সহায়তা করবে।
নির্বাচন কমিশন পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, বায়ারার নির্বাচনের অনুমোদনকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, কারণ সংস্থাটি দেশের কর্মসংস্থান বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তার অভ্যন্তরীণ শাসন কাঠামোকে সুষ্ঠু রাখতে এই নির্বাচন প্রয়োজনীয়। তবে, সকল শর্ত পূরণ না হলে অনুমোদন বাতিলের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
এই ঘটনার ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে পেশাগত সংস্থার নির্বাচন নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, একাধিক সংস্থার জন্য একই রকম ছাড় না দিলে ন্যায়বিচার প্রশ্নে পরিণত হতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনের নীতির ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনো বহিরাগত প্রভাব না রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বায়ারার নির্বাচনের অনুমোদনকে এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা হলে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন বায়ারার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন ঘটলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে। এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



