ডিজিটাল সংবাদ সংগ্রহের প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম ডিগ, তার প্রতিষ্ঠাতা কেভিন রোজ এবং রেডিটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান নেতৃত্বে, বুধবার থেকে ওপেন বিটা পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটিতে যোগ দিয়ে পোস্ট, মন্তব্য এবং “ডিগ” (আপভোট) করতে পারবে। এই চালু হওয়া সেবা একই সময়ে রেডিটের মতোই ফিড‑ভিত্তিক ব্রাউজিং এবং কমিউনিটি‑ভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকশন প্রদান করে।
ডিগের বর্তমান সংস্করণে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট আগ্রহের ভিত্তিতে কমিউনিটি বেছে নিতে পারে, পোস্ট শেয়ার করতে পারে এবং অন্যদের কন্টেন্টকে আপভোট বা ডাউনভোটের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে পারে। মোবাইল অ্যাপের উপস্থিতি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে, ফলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো সময় কন্টেন্ট অনুসন্ধান ও অংশগ্রহণ সম্ভব।
প্রথম দিকের ডিগ ২০০৮ সালে $১৭৫ মিলিয়ন মূল্যায়ন পেয়েছিল, তবে রেডিটের দ্রুত বৃদ্ধি ও ব্যবহারকারী ভিত্তি বৃদ্ধির ফলে বাজারে তার শেয়ার কমে যায়। ২০১২ সালে ডিগের মূল অংশটি বিনিয়োগকারী বেটাওয়ার্কসের কাছে বিক্রি হয়, আর লিঙ্কডইন ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও কিছু অংশ অধিগ্রহণ করে।
২০১৬ সালে ডিগ অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করে, তবে ২০১৮ সালে এটি একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থার হাতে চলে যায়। এই সময়ে প্ল্যাটফর্মের মূল ফোকাস সংবাদ সংগ্রহ থেকে ধীরে ধীরে সামাজিক মিডিয়া ফিচারে পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে রেডিট ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে, পাবলিক শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং গুগল ও ওপেনএআইসহ বড় এআই কোম্পানির সঙ্গে কন্টেন্ট লাইসেন্সিং চুক্তি করে আয় বাড়াচ্ছে।
কেভিন রোজ ও অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখে ডিগকে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা মার্চ মাসে ডিগের মালিকানা পুনরায় অর্জন করেন, যার মধ্যে ট্রু ভেঞ্চারস, ওহানিয়ানের ফার্ম সেভেন সেভেন সিক্স, রোজ ও ওহানিয়ান নিজে এবং ভেঞ্চার ফার্ম এস৩২ অন্তর্ভুক্ত। এই লেনদেনটি লিভারেজড বাইআউটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তবে তহবিলের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন ডিগের মূল লক্ষ্য এআই ব্যবহার করে বর্তমান সামাজিক মিডিয়ার জটিলতা ও বিষাক্ততা হ্রাস করা। প্ল্যাটফর্মটি এআই‑চালিত মডারেশন টুলের মাধ্যমে অনুপযুক্ত কন্টেন্ট দ্রুত সনাক্ত ও সরিয়ে ফেলতে চায়, পাশাপাশি বট দ্বারা সৃষ্ট ভুয়া পরিচয় প্রতিরোধে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। রোজ উল্লেখ করেন, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কঠোর পরিচয় যাচাইকরণ (KYC) প্রক্রিয়া প্রয়োগ না করেও সমাধান খুঁজে বের করা হবে।
ডিগের এই পুনরায় সূচনা প্রযুক্তি জগতে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা নির্দেশ করে। এআই‑সক্ষম মডারেশন ও কমিউনিটি গঠনকে একত্রিত করে, প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে এবং অনলাইন আলোচনার গুণগত মান বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। ভবিষ্যতে ডিগের সাফল্য নির্ভর করবে কতটা কার্যকরভাবে এআইকে মানবিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এবং ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জনে।
ডিগের ওপেন বিটা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও, প্রযুক্তি উত্সাহী ও কমিউনিটি নির্মাতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি কীভাবে রেডিটের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বিকশিত হবে এবং অনলাইন আলোচনার পরিবেশে কী পরিবর্তন আনবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



