যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার জানিয়ে দিলেন যে, শীঘ্রই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোকে বর্তমান আইন অনুসারে ভিসা প্রদান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যখন মন্ত্রণালয় তার প্রক্রিয়াগুলো পুনর্মূল্যায়ন করবে। এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি সম্পর্কিত সামগ্রিক পুনর্বিবেচনা রয়েছে।
প্রভাবিত দেশগুলোর তালিকায় সোমালিয়া, রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ আরও বহু রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলো থেকে আবেদনকারী এখনো ভিসা পেতে পারবে না, যতক্ষণ না নতুন নির্দেশনা জারি হয়।
এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা, যা গত বছর জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে কঠোর করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর মাসে ট্রাম্প একবার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, আফগানিস্তানের নাগরিকের দ্বারা হোয়াইট হাউসের নিকটে গুলি চালানোর পর, তিনি একটি ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে হত্যা করেন, ফলে তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের’ সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোরতর হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদে এই মেমোরেন্ডামটি কীভাবে প্রয়োগ হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান আইন অনুসারে কোনো ভিসা প্রদান না করা হবে। ফলে, এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, কাজ বা শিক্ষার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিবাসন নীতি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোও এই পদক্ষেপের প্রভাব অনুভব করতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে নজরদারিতে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা, পর্যটন এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশাল হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের ভোটার ভিত্তির মধ্যে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে এবং অভিবাসন সংক্রান্ত তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তা করবে। তবে আন্তর্জাতিক সমালোচকরা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষতি হিসেবে দেখছেন।
দূতাবাসগুলোকে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে, এবং ভিসা আবেদনকারীদেরকে এই পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।
এই নীতি পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ বা শিক্ষার জন্য আবেদনকারী বহু প্রার্থীর পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ছাত্রদের সংখ্যা হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে বিকশিত হবে এবং কোন দেশগুলোতে পুনরায় ভিসা প্রদান শুরু হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারগুলোও নিজেদের নাগরিকদের জন্য বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন পরিবেশে নতুন এক মোড়ের সূচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে কিভাবে গৃহীত হবে তা নজরে থাকবে।



