28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপুরন ঢাকায় সীমিত পরিসরে সাকরাইন উৎসবের আয়োজন

পুরন ঢাকায় সীমিত পরিসরে সাকরাইন উৎসবের আয়োজন

১৪ জানুয়ারি বুধবার দুপুর থেকে পুরন ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে। ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করা হয় এবং অনুষ্ঠানটি আগামীকাল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এই বছরের উদযাপন পূর্বের তুলনায় ছোট আকারে পরিচালিত হচ্ছে, তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অংশগ্রহণকারীরা এখনও উৎসবের রঙ উপভোগ করছেন।

উৎসবের মূল কার্যক্রমের মধ্যে ঘুড়ি উড়ানো, সন্ধ্যায় সঙ্গীত ও আগুনের খেলা অন্তর্ভুক্ত। দুপুরের পর ঘুড়ি আকাশে ভাসতে থাকে, আর সন্ধ্যায় স্থানীয় গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রের সুরে পরিবেশ সজীব হয়ে ওঠে। আগের মতো বিশাল মেলা না হলেও, সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারী এই ঐতিহ্যবাহী রীতিকে বজায় রাখতে সক্রিয়।

লক্ষীবাজার, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার এবং সূত্রাপুর এলাকায় বিশেষভাবে ঘুড়ি উড়ানো ও সন্ধ্যাবেলা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি বাজারে স্থানীয় সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর। যদিও অংশগ্রহণের পরিসর কম, তবে এই চারটি এলাকায় উৎসবের প্রাণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

সাকরাইন উৎসবের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘ঢাকাবাসী’। এই বছরও সংগঠনটি ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক র্যালি পরিচালনা করে। র্যালির মূল বার্তা ছিল ‘ঢাকা শহরকে ভালবাসুন, নিরাপদ আবাসন গড়ে তুলুন’। র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন রীতি বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংগঠনের সভাপতি সকুর সালেক উল্লেখ করেন, সাকরাইন উদযাপনের জন্য গত এক মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুরন ঢাকায় সাকরাইন-বিরোধী মিছিলের আয়োজন হয়েছে, যা রাজনৈতিক স্বার্থে রীতি বন্ধের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং উদযাপনের পরিধি সংকুচিত করতে বাধ্য করেছে।

সাকরাইন উৎসবের পূর্বের ধুমধামপূর্ণ উদযাপন এখন সীমিত পরিসরে সীমাবদ্ধ। আয়োজনকারীরা জানান, এই পরিবর্তনের পেছনে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা চাপা আতঙ্কের কারণ রয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ, রাজনৈতিক চাপ এবং সামাজিক বিরোধের প্রভাবকে তারা মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফলে, অনুষ্ঠানগুলো ছোট দল নিয়ে, নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, লক্ষীবাজার, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার ও সূত্রাপুরে আজ ঘুড়ি উড়ানো হয়েছে এবং সন্ধ্যায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলছে। তিনি যোগ করেন, আগামীকালও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, তবে আগের মতো বিশাল না হয়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কারণে সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

হাজী আবদুস সালামও একই মত প্রকাশ করেন; তিনি বলেন, আজ পুরো দিন ঘুড়ি উড়ানো হয়েছে এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, তবে পূর্বের মতো কোনো বিশালতা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের পরিবর্তনের ফলে সবকিছুই সীমিত পরিসরে হচ্ছে। এই পরিবর্তন সত্ত্বেও, স্থানীয়রা ঐতিহ্য বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবছর সাকরাইন উৎসব পুরন ঢাকায় বিশাল জনসাধারণের সমাবেশের সুযোগ দেয়, যেখানে শহরের বিভিন্ন কোণ থেকে মানুষ ভিড় জমায়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে কিছু গোষ্ঠী সাকরাইন রীতির বিরোধিতা প্রকাশ করেছে, যা এই বছরের উদযাপনে প্রভাব ফেলেছে।

সীমিত পরিসরে হলেও সাকরাইন উৎসবের মূল সত্তা—ঘুড়ি উড়ানো, সঙ্গীত ও আগুনের খেলা—আজও পুরন ঢাকার রাস্তায় জীবন্ত রয়েছে। স্থানীয় সংগঠন ও বাসিন্দা একসাথে ঐতিহ্যকে সংরক্ষণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আগামীকালও অনুষ্ঠান চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments