যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, দপ্তরের মুখপাত্রের মাধ্যমে করা হয়।
মেমোতে দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান ভিসা আবেদনগুলোকে পুনরায় মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত কোনো ভিসা ইস্যু না করা হবে। আবেদনকারীদের ভিসা না দেওয়ার এই নির্দেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রশাসনিক নির্দেশটি বিদ্যমান আইন অনুসারে কার্যকর করা হবে, যার অর্থ আবেদনকারীকে ভিসা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ফাইল বন্ধ রাখা হবে। দূতাবাসগুলোকে মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্যালোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভিসা প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২৫ সালের জানুয়ারি) গ্রহণ করা কঠোর অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি অভিবাসন প্রক্রিয়ার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে থাকেন।
প্রেক্ষাপট হিসেবে, গত নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি আফগান নাগরিকের গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্যের মৃত্যু ঘটেছিল। এই ঘটনার পর ট্রাম্প সরকার তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ব্রেকডাউন করে বলা যায়, বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াটেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য স্পষ্ট। শিক্ষার্থী, কর্মী এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের ভিসা আবেদন এখন স্থগিত হবে। ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা, একাডেমিক সেমিস্টার এবং ব্যবসায়িক চুক্তিতে বিলম্বের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাসগুলোকে আবেদনগুলো পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভিসা ইস্যু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ভিসা স্থগিতের সময়সীমা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, যা আবেদনকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে অভিবাসন নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছা রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। তবে সরকারী মুখপাত্র এই নীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা পরবর্তী সময়ে পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। মেমোতে নির্দেশিত পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভিসা পুনরায় চালু হতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর।
এই ভিসা স্থগিতের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কিছু অংশে চাপ আসতে পারে, বিশেষ করে শিক্ষা ও ব্যবসা ক্ষেত্রে। উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং এটি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের উপর প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই নীতি কতদিন পর্যন্ত বজায় থাকবে।



