পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে জানালেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার ড্রোন উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তবে এই পদক্ষেপের ফলে কোনো একক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি হবে না। একই সঙ্গে গাজা অঞ্চলে বাংলাদেশি সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
চীন সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারীভাবে প্রকাশ করেছে। চুক্তির মোট মূল্য ৬০৮ কোটি টাকা, যা দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বেশিরভাগ বিমান পুরনো এবং সেবার পর্যায়ে না থাকায় নতুন সরঞ্জাম ক্রয় করা জরুরি। “আমাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে হবে, তাই ন্যূনতম কিছু ক্রয় করা বাধ্যতামূলক,” তিনি বলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরবরাহকারী দেশ, প্রযুক্তি বা অংশীদারিত্বের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলমান, এবং কোনো একক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। “আমরা সবসময় ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করব,” তিনি যুক্তি দেন।
ড্রোন উৎপাদন প্রকল্পের পাশাপাশি, গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর (আইএসএফ) গঠনের আলোচনায় বাংলাদেশ শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে গাজা অঞ্চলে বাংলাদেশি সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। “গাজায় সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি,” হোসেন স্পষ্ট করে বলেন। তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে এখনো বিস্তৃত আলোচনা চলছে এবং কোন দেশ বা সংস্থা অংশগ্রহণ করবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
চীনের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা। হোসেনের মতে, দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তবে তা কোনো একক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। “আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই, তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বও স্বীকার করি,” তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ড্রোন উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেশের আকাশসীমা রক্ষা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ সামরিক শিল্প গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুসারে, সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল সরবরাহ করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন করা হবে, যা ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট সহজ করবে।
গাজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর গঠন এবং বাংলাদেশি সৈন্যের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেই। হোসেনের মতে, গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন, তবে বাংলাদেশ তার ভূমিকা নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করবে। “এখনো কোন চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেই; বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনা রয়েছে,” তিনি বলেন।
সামগ্রিকভাবে, তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষর করে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চায়, তবে তা কোনো একক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। একই সঙ্গে গাজা মিশনে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতা বজায় রয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর গঠনে শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই দুই বিষয়ের অগ্রগতি দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



