যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং রাশিয়া, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ শেষ করে দেবে। মন্ত্রিপরিষদ এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের প্রবেশ রোধের লক্ষ্য উল্লেখ করেছে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ৭৫টি দেশের কনস্যুলার অফিসগুলোকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান ভিসা প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাই পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে এবং এই দেশগুলোর আবেদনকারীদের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে।
মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা পাঠানোর মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়ার কঠোরতা বাড়াতে চায়, যাতে সরকারি তহবিল, স্বাস্থ্যসেবা, ইংরেজি শিক্ষা বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রবেশ রোধ করা যায়। এই নীতি অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কল্যাণ বা আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা বেশি, তাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা বেশি।
প্রকাশিত তালিকায় রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিশর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইয়েমেনসহ আরও কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও সব ৭৫টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে উল্লেখিত দেশগুলো থেকে আবেদনকারী এখনো ভিসা পাবে না।
গত বছরের নভেম্বর মাসে মন্ত্রণালয় একই ধরনের একটি নির্দেশনা জারি করেছিল, যেখানে নতুন যাচাই-বাছাই মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সরকারি সহায়তা গ্রহণের সম্ভাবনা থাকা ব্যক্তিদের ভিসা আবেদনকে অগ্রাধিকারহীন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নতুন নীতিতে স্বাস্থ্যসেবা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, আর্থিক সুবিধা এবং দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়াও, বয়স্ক এবং অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র টমি পিগট উল্লেখ করেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন করছে এবং এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা সরকারি ত্রাণ বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের প্রবেশ রোধের জন্য নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অন্যতম লক্ষ্য। মন্ত্রণালয় দাবি করে, ভিসা প্রক্রিয়ার কঠোরতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য দায়িত্বশীল নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ধারাকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু দেশ এই সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করতে পারে।
পরবর্তী ধাপে মন্ত্রণালয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার পুনঃপর্যালোচনা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দেশকে তালিকায় যুক্ত করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখবে। বর্তমানে, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকবে এবং বিদ্যমান ভিসা ধারকদের অবস্থানও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটগুলোতে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করা হবে এবং আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যানের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেরণ করা হবে।



