বাহরাইনের একটি পোস্টাল ডেলিভারি পয়েন্টে ১৬০টি ভোটের ব্যালটের বক্সের ভিডিও নির্বাচনী কমিশনের সচিবের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশি প্রবাসী কয়েকজন বক্সটি খুলে ব্যালটগুলোকে ভাগ করে নিজেদের ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সচিব নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের কথা জানান।
ইলেকশন কমিশনের সচিব উল্লেখ করেন, বিদেশি ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো একটি আনন্দের মুহূর্ত এবং তা ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বক্সটি কোনোভাবে খোলার চিহ্ন দেখায় না এবং ব্যালটের প্যাকেজিং অক্ষত রয়েছে। তাই, বর্তমানে কোনো অননুমোদিত হস্তক্ষেপের সন্দেহ নেই।
বহিরাগত ভোটারদের জন্য মোট ৭.৫ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালটের খাম পাঠানো হয়েছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এই ব্যালটগুলো ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে এবং তারা ভোটের পরে খামটি বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচনী ফলাফল গণনা করা হবে।
বাহরাইনের ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের প্রেরণ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে করা হয়, কারণ দেশটি ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের সদস্য। পোস্টাল সিস্টেমের কাঠামো দেশভেদে ভিন্ন, তবে এখানে ব্যালটগুলো একত্রে একটি বক্সে রাখা হয় এবং ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়। সচিবের মতে, এই পদ্ধতি স্থানীয় পোস্টাল নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে বক্সে ১৬০টি ব্যালট একসাথে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাহরাইনের ডাক বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কিনা তা যাচাই করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে। ইসি সচিব নিশ্চিত করেছেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
অধিকন্তু, বিদেশি ভোটারদের ব্যালটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী কমিশন ভবিষ্যতে পোস্টাল ব্যালটের হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই পদক্ষেপগুলো ভোটারদের আস্থা জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মান উন্নত করার ইঙ্গিত দেবে।



