22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইরান শুল্কবৃদ্ধি নীতি সমালোচনা, চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইরান শুল্কবৃদ্ধি নীতি সমালোচনা, চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

মস্কোতে বুধবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে চাপ দেওয়ার নীতিকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

প্রেস কনফারেন্সে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে তার বিদ্যমান চুক্তিগুলি অনুসরণ করে ইরান ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি রাশিয়ার ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি পদক্ষেপটি ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম ও আঞ্চলিক নীতির প্রতি চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে রাশিয়ার দৃষ্টিতে এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক বাজারে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নষ্ট করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন একটি শক্তিশালী দেশ এমন অপ্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করে, তখন তা কেবল তার নিজস্ব প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতাকে ক্ষয় করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল’ বলে সমালোচনা করেন।

এদিকে, চীনও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের এই অবস্থান রাশিয়ার সমালোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন।

চীন সরকার ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক চুক্তিগুলি রক্ষা করতে ইচ্ছুক এবং নতুন কোনো শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ইরানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শৃঙ্খলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষত তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্যের রপ্তানিতে প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী তেল মূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এই ধরনের নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। রাশিয়া ও চীন উভয়ই এই প্রেক্ষাপটে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাশিয়া ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যার মধ্যে জ্বালানি, কৃষি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। এই সহযোগিতা রাশিয়ার জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নীতিতে সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে চায় এবং কোনো একক দেশের একতরফা শুল্ক নীতি গ্রহণে বিরোধিতা করে।

ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীন ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন চুক্তি ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে পারে। এই ধাপগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সীমিত করতে সহায়তা করবে।

অধিকন্তু, রাশিয়া ও চীন উভয়ই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের জিওপলিটিক্যাল ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে চায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে দেখছে।

সারসংক্ষেপে, মস্কোর প্রেস কনফারেন্সে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ইরান শুল্কবৃদ্ধি নীতিকে অপ্রয়োজনীয় ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে ক্ষতিকারক বলে সমালোচনা করেন এবং রাশিয়া ও চীন উভয়েরই ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই অবস্থানগুলো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নীতিতে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments