27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় বিমান গ্রিসে পুনরায় সরিয়ে নেওয়া, ইরান-ইউএস উত্তেজনা বাড়ছে

ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় বিমান গ্রিসে পুনরায় সরিয়ে নেওয়া, ইরান-ইউএস উত্তেজনা বাড়ছে

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জগের ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমান, “উইং অব জায়ন”, বুধবার গ্রিসের ক্রেটা দ্বীপে অবস্থিত নেভাটিম বেস থেকে উড়ে গিয়ে আবার গ্রিক ভূখণ্ডে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গ্রিসে পাঠানো হয়। একই দিনে গ্রিক মিডিয়া জানায়, বিমানটি গ্রিস ছেড়ে পুনরায় ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিমানটি প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এবং দুইবারের পাল্টা হামলার সময় ইসরায়েল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঐ সময়ে বিমানটি নেভাটিমের প্রধান বেসে অবস্থান করছিল, যা ইরানের ব্যাপক বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেই আক্রমণের পর, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিমানটি গ্রিসে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার হুমকি বাড়ার ফলে ইসরায়েল এই বিমানটি গ্রিসে পাঠাচ্ছে। পূর্বে একই বিমান তিনবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতা নির্দেশ করে। তবে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর একটি মুখপাত্র স্পষ্ট করেন যে, এই স্থানান্তরটি কোনো কূটনৈতিক সংকেত নয়, বরং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রোগ্রামের অংশ।

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি পরিস্থিতি তীব্রতর করেছে। ট্রাম্পের অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হামলা চালায়, তবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে লক্ষ্যবস্তু হবে। এই ঘোষণার পর ইরান সরকার সতর্কতা বাড়িয়ে, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে। এই বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে, যা পূর্বে তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল।

ইউএস সামরিক বাহিনী কাতারের দোহা শহরে অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানবন্দরে অবস্থিত কিছু সেনা ইউনিটকে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপটি ইরান-ইউএস উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এবং অঞ্চলের সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় বিমানের এই পুনরাবৃত্তি স্থানান্তর কেবল প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ নয়, বরং ইরান-ইউএস-ইসরায়েল ত্রিভুজে শক্তি ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। গ্রিসের নেভাটিম বেসের নিকটবর্তী অবস্থান, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং ভূমধ্যসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে, তবে ইসরায়েল তার সামরিক সম্পদ, বিশেষত উচ্চমানের বিমান, আরও সুরক্ষিত অঞ্চলে স্থাপন করতে পারে। গ্রিক ভূখণ্ডের নিকটবর্তী অবস্থান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন এবং নেভাটিমের উন্নত অবকাঠামো ভবিষ্যতে অতিরিক্ত স্থানান্তরের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও গ্রিসের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিমানটির চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারিত হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-সংক্রান্ত নীতি ও কাতারের সামরিক পুনর্বিন্যাসের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। এই জটিল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট, যাতে অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা এড়ানো যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments