ইলেকশন কমিশনের ভবনে আজ সন্ধ্যায় ইসিসি সচিব পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তিনি জানালেন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের সহযোগিতায় বিদেশে ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।
বাহরাইনের ক্ষেত্রে ১৬০টি ব্যালট একত্রে একটি বক্সে রাখা হয়, যা হোস্টেল সময়ের চিঠিপত্রের পাত্রের মতো কাজ করে। সেই বক্সটি দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা খুলে, প্রত্যেকটি ব্যালট নিজ নিজ ঘরে ভাগ করে নেন এবং ভোটারদের হাতে পৌঁছে দেন।
ইসিসি সচিব উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতি সম্পর্কে তৎক্ষণাৎ বাহরাইন পোস্ট অফিসকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি তদন্ত করে জানাবে কেন এইভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যতিক্রম ঘটেছে কিনা তা স্পষ্ট করা হবে।
বিএনপি পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের প্রতীক ভাঁজ হয়ে থাকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ইসিসি সচিবের মতে, প্রতীকের গেজেটের ধারাবাহিকতা অনুসারে ব্যালটে প্রতীকের ক্রম সাজানো হয়েছে এবং কোনো ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন করা হয়নি।
আজ বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার পঞ্চম দিনে মোট ১০০টি আপিল শোনা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, ১৭টি নামঞ্জুর এবং ১০টি শোনার তারিখ পরে নির্ধারিত হয়েছে।
ইসিসি সচিব জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কমিশন মোট ৩৮০টি আপিল শোনার কাজ সম্পন্ন করেছে। এদের মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর, ৮১টি নামঞ্জুর এবং ২৩টি বিভিন্ন কারণে শোনার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শোনার কাজ ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে তিনি জানান। আপিল প্রক্রিয়ার এই ধারাবাহিকতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু রয়েছে।
বাহরাইন পোস্টাল ব্যালটের বিতরণ পদ্ধতি ও গেজেটের সাথে সামঞ্জস্যের বিষয়টি উভয় দেশের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নজরে থাকবে। ইসিসি সচিবের মন্তব্য অনুসারে, কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় ইসিসি সচিবের ব্যাখ্যা ও আপিল শোনার তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে পোস্টাল ব্যালটের পরিচালনা ও আপিলের ফলাফল নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।



