ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিক অফিসের সন্নিকটে গতকাল (মঙ্গলবার) গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। গুলির ফলে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট নেই, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ভেসে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।
গুলির সঠিক স্থানটি এনসিপি পার্টির মূল অফিসের ঠিক পাশে, যা পার্টির সাংগঠনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসের সঙ্গে এই স্থানটি কোনোভাবে সংযুক্ত নয়, এ বিষয়টি পার্টির মিডিয়া উপকমিটির প্রধানের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলমের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুলির ঘটনা এনসিপি অফিসের সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে, কিন্তু তা নির্বাচনী অফিস বা নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মস্থল নয়। তিনি এই তথ্যকে স্পষ্ট করে জানিয়ে মিডিয়ার ভুল ধারণা দূর করার আহ্বান জানান।
এনসিপি পার্টি গুলির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রেরণা যুক্ত আছে বলে প্রাথমিকভাবে কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি। পার্টি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, গুলির পেছনে কোনো দলীয় সংঘাত বা নির্বাচনী উত্তেজনা জড়িত থাকার সম্ভাবনা কম, এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাড্ডা থানার ওয়েস্টার্ন চিফ (ওসি) কাজী রাশিদুল আমিন ঘটনাটিকে নিশ্চিত করে জানান যে, গুলির ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির ফলে ঘটেছে। তিনি জানান, গুলির পরে现场ে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুতই শত্রুদের অনুসরণ করে না, তবে ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু রয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে গুলির গুলি-চিহ্ন, গুলি-ধ্বংসাবশেষ এবং সম্ভাব্য গুলিবিদ্ধের গাড়ি-যানবাহন থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক দল এই প্রমাণের বিশ্লেষণ করে গুলির দিকনির্দেশ এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ নির্ধারণের কাজ করছে। একই সঙ্গে, গুলির সময় এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ডিং সংগ্রহের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
গুলির মামলাটি এখন পর্যন্ত অপরাধ রেজিস্ট্রেশন (FIR) দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী বা সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালু রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, পুলিশ শীঘ্রই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। আদালত প্রক্রিয়া শুরু হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যথাযথ আইনি নোটিশ প্রদান করা হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বেশ কয়েকটি অফিস পরিচালনা করে, যার মধ্যে সাংগঠনিক অফিসটি পার্টির মূল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। এই অফিসের আশেপাশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং জনসাধারণের সমাবেশের সংখ্যা বেড়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে তারা একই সঙ্গে নিরাপত্তা ক্যামেরা এবং আলো ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায়।
গুলির ঘটনা এখনো তদন্তাধীন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পার্টি ও পুলিশ উভয়ই জানিয়েছে যে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।



