রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৯৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)কে দেশের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বদলি করা হয়েছে। এই আদেশটি মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের স্বাক্ষরে জারি করা হয় এবং তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের পূর্বশর্ত হিসেবে, এই শিক্ষানবিশরা এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এখন বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত হচ্ছে। তাদের বদলি করা ইউনিটগুলোতে শহুরে থানা, গ্রাম্য থানা, বিশেষায়িত ইউনিট এবং অন্যান্য পুলিশ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত, যা তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারের অপরাধমূলক পরিস্থিতি ও তদন্তে সরাসরি জড়িত হওয়ার সুযোগ দেবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি পিআরবি ভলিউম‑১ এর প্রবিধান‑৭৯০ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রবিধানটি প্রশিক্ষণের সময়কাল, দায়িত্ব ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করে, যাতে শিক্ষানবিশরা তাদের ভবিষ্যৎ এএসপি দায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রাপ্ত হয়েছে। উভয় সংস্থার অনুমোদন এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে এবং প্রশিক্ষণকালে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তদারকি সহজতর করে।
বদলি হওয়া ইউনিটগুলোতে শিক্ষানবিশ এএসপি গণ তাদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট ইউনিট থেকে সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ, প্রশিক্ষণের সময় তাদের আর্থিক অধিকার কোনো বাধা ছাড়াই বজায় থাকবে এবং তারা নতুন দায়িত্বে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে।
প্রশিক্ষণের সময়কাল ছয় মাস নির্ধারিত, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে শিক্ষানবিশদের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রশিক্ষণ শেষে পারফরম্যান্স রিভিউয়ের ভিত্তিতে তাদেরকে পূর্ণ এএসপি পদে নিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।
এই বাস্তব প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা পুলিশ বাহিনীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, অপরাধ মোকাবিলার দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। শিক্ষানবিশরা বিভিন্ন ধরণের অপরাধ তদন্ত, দখল, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
প্রশিক্ষণকালে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তারা শিক্ষানবিশদের কাজের গুণগত মান, আইনগত প্রয়োগের সঠিকতা এবং নৈতিক দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ দেবেন। এই তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, প্রশিক্ষণকালে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম আইনগত মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর শিক্ষানবিশ এএসপি গণকে পূর্ণ এএসপি পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে, যা তাদের ক্যারিয়ার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পদক্ষেপটি পুলিশ বাহিনীর মানবসম্পদ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বদলি আদেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানবিশদের নতুন ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে এবং তৎক্ষণাৎ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সকল সংশ্লিষ্ট ইউনিটের উচ্চতর কর্মকর্তারা এই পরিবর্তনকে সমর্থন জানিয়ে প্রশিক্ষণকালে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নির্দেশনা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই বাস্তব প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে অপরাধ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত ও সক্ষম এএসপি গণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



