ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মস্তিষ্কের স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে তার শেষ সমাধি কুমিল্লা জেলার দাউদকন্দি উপজেলার খানেবাড়ি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়।
ফেরদৌস আরা মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা অনুভব করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার সকাল ৭টায় তিনি একই হাসপাতালে মস্তিষ্কের স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং অবিলম্বে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্বামী মো. শাহ জাহান মাস্টার জানাতে চান, তিনি এককন্যার মা এবং পরিবারের একমাত্র স্ত্রীরূপে পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যুর পরপরই, তার প্রথম জানাজা ঢাকার ডেমরা এলাকায় অবস্থিত শেখদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তার পিতার বাড়ি থেকে পরিবার ও আত্মীয়জন উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে দেহটি দৌদকন্দি, কুমিল্লার বিটেশ্বর ইউনিয়নের খানেবাড়ি গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়।
দৌদকন্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের খানেবাড়ি গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর, ফেরদৌস আরা পারিবারিক কবরস্থানে সমাধি করা হয়। সমাধি অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফেরদৌস আরা ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান। তার পূর্বে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য ছিলেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবা ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং দাউদকন্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তারসহ দুই জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে। তারা ফেরদৌস আরার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, তার ন্যায়সঙ্গত কর্মজীবনের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ফেরদৌস আরার অকাল মৃত্যু স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে শূন্যতা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে। এই শূন্যতা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসেবা কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তা দ্রুত পূরণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৃত্যুর পরপরই, স্থানীয় জনগণ ও কর্মচারীরা তার ন্যায়পরায়ণতা ও কঠোর পরিশ্রমের কথা স্মরণ করে। তার পরিবার এবং সহকর্মীরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে, ভবিষ্যতে তার আদর্শ অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই শোকের মুহূর্তে, প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



