বৃহস্পতিবার হবাটের হ্যারিকেনস দল ব্রিসবেন হিটের মুখোমুখি হয়ে বিগ ব্যাশ লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১৬০ রান লক্ষ্য করে শুটিং শুরু করে। শেষ পর্যন্ত হবাট ১৫৭/৮ স্কোরে শেষ করে, ফলে তিন রানের পার্থক্যে হিটের হাতে হারের মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচে বাংলাদেশি লেগ‑স্পিনার রিশাদ হোসেনের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
হবাটের শুটিং শুরুতে লক্ষ্য ছিল ১৬০ রান, এবং শেষ ছয় ওভারে ৩৭ রান বাকি থাকায় তারা আটটি উইকেট নিয়ে ভাল অবস্থানে ছিল। বেউ ওয়েবস্টার ৪৩ ball‑এ ৫১ রান এবং বেন ম্যাকডারমট ৩৬ ball‑এ ৫৯ রান করে দুইজনই অর্ধশতক পূরণ করে, যা টার্গেটের দিকে গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে শেষের ওভারগুলোতে রানের গতি ধীর হয়ে যায়, ফলে সমতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
শেষ ওভারটি ব্রিসবেনের পেসার জামান খান বোল করেন। প্রথম দুই ball‑এ নাথান এলিস মাত্র এক রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, এরপর নিকিল চৌধুরী দুইটি ডট ball‑এর পর আউট হন। তখন স্কোরে পাঁচ রান বাকি থাকায় নতুন ব্যাটসম্যান রিশাদ হোসেনকে শেষ ডেলিভারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একটাই রান সংগ্রহ করতে পারার ফলে হবাট ১৫৭/৮ স্কোরে শেষ করে, এবং তিন রানের পার্থক্যে হিটের কাছে হারে।
ম্যাচের আগে হবাটের শুটিং পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি ball‑এ এক রান করে লক্ষ্য পূরণ করা, যা শেষের ওভারে বাস্তবায়িত হয়নি। বেউ ওয়েবস্টার ও বেন ম্যাকডারমটের অর্ধশতক পার হওয়া সত্ত্বেও দলটি শেষের মুহূর্তে রানের গতি বজায় রাখতে পারেনি, ফলে শেষের ওভারগুলোতে চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত হারের মুখোমুখি হয়।
এই পরাজয়ের পরও হবাট হ্যারিকেনস টেবিলে শীর্ষে রয়ে যায়, দশটি ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং প্লে‑অফের স্থান নিশ্চিত করেছে। তবে শীর্ষ দুইতে শেষ করার সম্ভাবনা এখন অন্যান্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল, যা দলকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করবে।
রিশাদ হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্স এই ম্যাচে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তিনি চারটি ওভার সম্পূর্ণ করে ২ উইকেটের সঙ্গে ২৭ রান দিয়েছেন, যা হবাটের পুরো বোলিং ইউনিটের মধ্যে সর্বাধিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স। প্রথম দুই ওভারে তিনি ২১ রান conceded করলেও, পরের দুই ওভারে মাত্র ছয় রানই দিয়েছেন, যা ডেথ ওভারের ক্ষেত্রে তার নিয়ন্ত্রণকে তুলে ধরে।
ডেথ ওভারে রিশাদ মেট রেনশো এবং মার্নাস লাবুশ্যাগনের দুজন ব্যাটসম্যানকে আউট করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করেন। ১৪তম ওভারে পুনরায় বোলিংয়ে ফিরে এসে তিনি রেনশোকে পাঁচ রান conceded করে তার উইকেট নেন, যা হিটের স্কোরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তার এই ধারাবাহিকতা দলকে শেষের মুহূর্তে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়, যদিও শেষ পর্যন্ত জয় অর্জন করতে পারেনি।
সারসংক্ষেপে, হবাটের শুটিংয়ে শেষের ওভারগুলোতে রানের ঘাটতি এবং রিশাদের শেষ ডেলিভারিতে এক রান সংগ্রহের ফলে দলটি হিটের কাছে হারে। তবু রিশাদের বোলিং পারফরম্যান্স দলকে কিছুটা রিলিফ দেয় এবং প্লে‑অফের পথে তাদের অবস্থানকে মজবুত করে। ভবিষ্যতে হবাটের শুটিং কৌশল ও ডেথ ওভারের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে সমান পরিস্থিতিতে জয় নিশ্চিত করা যায়।



