ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রিনল্যান্ডে একটি কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপ স্বায়ত্তশাসিত ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডের ইউরোপীয় সংযোগ বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। কনস্যুলেটের উদ্বোধন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের নিকটবর্তী একটি ভবনে হবে এবং তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নেটওয়ার্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বর্ণনা অনুযায়ী, বারো এই ঘোষণাকে একটি “রাজনৈতিক সংকেত” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ফ্রান্সের লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রের উপস্থিতি বৃদ্ধি করা। কনস্যুলেটের মাধ্যমে ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করার সুযোগ হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য দখল সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্পের বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনতে চাওয়ার ইঙ্গিত ন্যাটো জোটের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফরাসি সরকার এই পরিস্থিতিতে নিজের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং ইউরোপীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য কনস্যুলেটের পরিকল্পনা চালু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ডের কোনো ধরনের দখল বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এই সতর্কতা ন্যাটোর অভ্যন্তরে একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব অবস্থানও স্পষ্ট। দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে বা শাসিত হতে চায় না এবং কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। বরং ডেনমার্ক, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক নীতিতে তার স্বতন্ত্র অবস্থানকে তুলে ধরে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেনও একই রকম মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দ্বীপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্ক যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়; মূল বিষয় হল গ্রিনল্যান্ডের ইউরোপীয় অংশ হিসেবে অবস্থান বজায় রাখা। নিলসেনের এই বক্তব্য ফরাসি কনস্যুলেটের উদ্বোধনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ইউরোপীয় সংহতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের কনস্যুলেটের উদ্বোধন গ্রিনল্যান্ডের কূটনৈতিক মানচিত্রে নতুন একটি স্তর যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভবিষ্যতে ফরাসি গবেষণা প্রকল্প, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা বজায় থাকলেও ইউরোপীয় সংহতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। এই প্রক্রিয়া কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



