বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল হোসেন বুধবার স্পষ্ট করে বললেন, যদি পুরুষ দল ICC T20 বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তবে বোর্ডের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। এই মন্তব্যটি বোর্ডের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভারত ভ্রমণকে অস্বীকার করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক অনুমান চালু ছিল, কিছু বিশ্লেষক বলছিলেন যে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া হলে বোর্ডের আয়‑ব্যয় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। নাজমুলের বক্তব্য এই অনুমানকে প্রত্যাখ্যান করে, বোর্ডের আর্থিক অবস্থার স্থিতিশীলতা পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছিল, তারা মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের IPL স্কোয়াড থেকে মুক্তি দেবে, যা দুই দেশের চলমান উত্তেজনার একটি অংশ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তবে নাজমুল জোর দিয়ে বললেন, খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত চুক্তি ও বেতন বোর্ডের আর্থিক হিসাব থেকে আলাদা।
তামিম ইকবালকে ভারতীয় এজেন্টের অভিযোগের পর, নাজমুল উল্লেখ করেন, যদি দল বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তবে আর্থিক বোঝা সরাসরি খেলোয়াড়দের উপর পড়বে। কারণ, আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি ম্যাচের ফি, ম্যান‑অফ‑দ্য‑ম্যাচ বোনাস এবং অন্যান্য পারফরম্যান্স‑ভিত্তিক পুরস্কার ICC এর নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হয়। এই অর্থের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে খেলোয়াড়ের, বোর্ডের কোনো অংশীদারিত্ব নেই।
নাজমুল আরও ব্যাখ্যা করেন, ২০২২ সালের ICC আর্থিক বৈঠকে ২০২৭ পর্যন্ত বোর্ডের আয়‑ব্যয় কাঠামো স্থির করা হয়েছিল, ফলে বর্তমান বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ বা অ‑অংশগ্রহণের ফলে বোর্ডের মোট আয়‑ব্যয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো বিশ্বকাপ, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অধীনে টিম‑ট্যুর‑প্রোগ্রাম (FTP) এর পরিবর্তন হলে তা আর্থিক দিক থেকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে তা বর্তমান টুর্নামেন্টের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়।
খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। ICC এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের জন্য নির্ধারিত ফি, ম্যান‑অফ‑দ্য‑ম্যাচ পুরস্কার এবং বিশেষ পারফরম্যান্সের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়। দল না খেললে এই সব উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে খেলোয়াড়দের আয় হ্রাস পাবে। নাজমুল জোর দিয়ে বলেন, এই অর্থের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ICC এবং খেলোয়াড়ের নিজস্ব চুক্তির ওপর নির্ভরশীল, বোর্ডের কোনো আর্থিক লাভ বা ক্ষতি হয় না।
অবশেষে, নাজমুল স্পষ্ট করে জানান, যদি দল বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তবুও বোর্ড খেলোয়াড়দের কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে না। এই অবস্থানটি বোর্ডের আর্থিক নীতি ও ICC এর গৃহীত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা আলাদা আলোচনার বিষয় হবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব নেই।
সারসংক্ষেপে, নাজমুল হোসেনের বক্তব্যে বোঝা যায়, বাংলাদেশি ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামো ২০২৭ পর্যন্ত স্থিতিশীল, এবং বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়া শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি ও পারফরম্যান্স বোনাসে প্রভাব ফেলবে, বোর্ডের মোট আয়‑ব্যয়ে নয়।



