জ্যান্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড আজ বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) এর সঙ্গে ল্যান্ড লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করে ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (এনএসইজে) রপ্তানিমুখী উৎপাদন ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়েছে। চুক্তি ঢাকা শহরের বেজা অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বেজা’র ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এক্সিকিউটিভ সদস্য সেলাহ আহমেদ এবং জ্যান্টের চেয়ারম্যান মো. তফাজ্জাল হোসেন স্বাক্ষর করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
কোম্পানি প্রায় ৮০ কোটি টাকার মূলধন投入 করে পাঁচ একর জমিতে নতুন কারখানা নির্মাণ করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্যান্ট এক্সেসরিজ স্থানীয় শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং রপ্তানি পোর্টফোলিও বিস্তৃত করবে। পরিকল্পিত সুবিধা সম্পূর্ণভাবে রপ্তানিমুখী, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।
নতুন কারখানায় পলিউরেথেন ফোম, পলিথিন ফোম, রিসাইকেলড ফোম, গদি, বালিশ, কমফর্টার এবং জুতো ইনসোলসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। এই পণ্যগুলো স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হবে। ফোম ভিত্তিক পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
কাঁচামালের প্রায় নব্বই শতাংশ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হবে। এই দেশগুলো থেকে উচ্চমানের কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে উৎপাদন মান বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে কাঁচামালের উপর নির্ভরতা বাড়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে।
কোম্পানি জানিয়েছে ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। এই সময়সীমা পূরণে নির্মাণ কাজ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কর্মী প্রশিক্ষণ সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে। উৎপাদন শুরু হলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধবভাবে নকশা করা হয়েছে; এতে জল ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনা হবে এবং গ্যাসের ব্যবহার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হবে। এইসব ব্যবস্থা কার্বন নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করবে এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মডেল হিসেবে কাজ করবে। বেজা এই উদ্যোগকে দেশের সবুজ শিল্পায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেলাহ আহমেদ উল্লেখ করেন, এনএসইজে-তে টেকসই ও সবুজ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা বেজার মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের বিনিয়োগ দেশীয় ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বাড়াবে এবং এনএসইজের আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি পাবে। জ্যান্টের এই পদক্ষেপ বেজার দীর্ঘমেয়াদী শিল্প নীতি সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জ্যান্ট এক্সেসরিজ ইতিমধ্যে কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে একটি সুবিধা পরিচালনা করছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানি তার টেকসই শিল্প উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করবে। এই সম্প্রসারণ কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ও বাজার উপস্থিতি বাড়াবে।
বর্তমানে ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে ১৭টি কারখানা কার্যক্রমে রয়েছে, আর ২৪টি কারখানা নির্মাণাধীন। জ্যান্টের নতুন প্রকল্প এই সংখ্যাকে বাড়িয়ে দেশের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। নতুন সুবিধা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ফোম ও গদি পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা উচ্চ, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চাহিদা বাড়ছে। জ্যান্টের এই বিনিয়োগ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেইনের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
তবে কাঁচামালের অধিকাংশ আমদানির উপর নির্ভরতা একটি ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রা ওঠানামা বা বাণিজ্যিক বাধা উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। তাই কোম্পানি স্থানীয় কাঁচামাল বিকাশের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
দীর্ঘমেয়াদে এনএসইজে-তে সবুজ ও টেকসই শিল্পের প্রবণতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জ্যান্টের মতো বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ এই দিককে ত্বরান্বিত করবে এবং অন্যান্য শিল্পকে অনুপ্রাণিত করবে। সরকার যদি নীতি সমর্থন ও অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রসর হয়, তবে দেশের শিল্প রপ্তানি ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সারসংক্ষেপে, জ্যান্ট এক্সেসরিজের ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং নতুন ফোম-ভিত্তিক পণ্য লাইন ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনের শিল্প পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরিবেশবান্ধব নকশা, রপ্তানি দৃষ্টিকোণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যমে এই প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে ধারণা করা যায়।



