শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বুধবার বিকালের দিকে হজ ও ওমরা সফরের গাইড গিয়াস উদ্দিন (বয়স ৪৬)কে আটক করেছে। গিয়াস উদ্দিনকে ‘মুয়াল্লেম’ বলা হয়, যিনি হজ বা ওমরা যাত্রীর সঙ্গে থেকে তাদের ধর্মীয় সফরের সময় সহায়তা প্রদান করেন।
বিকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের আগমন ক্যানোপি এলাকায় তার চলাফেরা সন্দেহজনক বলে পুলিশ তাকে এপিবিএন অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অনুসন্ধানের সময় তার গলায় ঝুলিয়ে রাখা হজীদের ব্যাগ থেকে ৬৮০ গ্রাম ২১ ক্যারেটের স্বর্ণালঙ্কার, মোট ৫৮টি, পাশাপাশি ৭৭ হাজার টাকা এবং ১৬,১২৫ সৌদি রিয়াল নগদ পাওয়া যায়।
পুলিশের মতে, গিয়াস উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে তিনি বিভিন্ন ওমরা যাত্রীর মাধ্যমে স্বর্ণকে ‘শুল্ক ফাঁকি’ দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তিনি নিজেকে সোনার ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করিয়ে বিমানবন্দরের সক্রিয় সোনার চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানা-তে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি এখন তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। গিয়াস উদ্দিনের গ্রেফতার ও জব্দকৃত স্বর্ণের বিশদ তথ্য তদন্তকারী দল ভবিষ্যতে আদালতে উপস্থাপন করবে।
বিমানবন্দর এপিবিএন কমান্ডার স্প মোজাম্মেল হক জানান, সোনার পাশাপাশি মাদকের চোরাচালান রোধে তারা সর্বদা সতর্ক এবং তৎপর থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, এধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল জড়িতকে আইনের শিকারে আনা হবে।
এই ঘটনার পর, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ চোরাচালান রোধে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, হজ ও ওমরা যাত্রীর সঙ্গে যুক্ত গাইডদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে ধর্মীয় সফরের সময় কোনো অবৈধ কার্যক্রম না ঘটে।
গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি শীঘ্রই আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত হবে। আদালতে তার বিরুদ্ধে সোনার চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি এবং অপরাধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হবে। মামলার ফলাফল অনুসারে, শাস্তি নির্ধারিত হবে এবং জব্দকৃত স্বর্ণের মালিকানা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিষয়ও সমাধান করা হবে।
এই গ্রেফতার ঘটনাটি দেশের সীমানা পারাপার সোনার অবৈধ প্রবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট: সোনার চোরাচালান, মাদক পাচার বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত কেউই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে অপরাধ করতে পারবে না।



