27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামংলা বন্দরে ভারত থেকে ৫,০০০ মেট্রিক টন চালের জাহাজ পৌঁছেছে

মংলা বন্দরে ভারত থেকে ৫,০০০ মেট্রিক টন চালের জাহাজ পৌঁছেছে

মংলা বন্দরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি জাহাজে ভারতীয় উৎপাদিত ৫,০০০ মেট্রিক টন চাল অবতরণ করেছে। ভিয়েতনাম পতাকাবাহী MV Hong Turn নামের জাহাজটি এই চালের লোড বহন করে, যা দেশের গৃহস্থালী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চাল জাহাজটি ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মংলা বন্দর টার্মিনালে পৌঁছায় এবং পরের দিনই বন্দর কর্মীদের তত্ত্বাবধানে জাহাজের ডকিং সম্পন্ন হয়। জাহাজের লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বন্দরে পৌঁছানোর পর, চালের নমুনা সংগ্রহের কাজ বুধবার বিকেলে সম্পন্ন হয়। সংগ্রহিত নমুনা খিলনা ও ঢাকা শহরের স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে গুণগত বিশ্লেষণ করা হয়। ল্যাবরেটরিতে চালের গুণমান, দানা গঠন এবং সঞ্চয়যোগ্যতা যাচাই করা হয়, যাতে বাজারে প্রবেশের আগে মান নিশ্চিত করা যায়।

নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আজাদ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খুলনা চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক এস.কে. মশিয়ার রহমান। তাদের তত্ত্বাবধানে ল্যাবরেটরি ফলাফল সন্তোষজনক হলে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে চালের খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আব্দুল সোবহান সরদার উল্লেখ করেন, গৃহস্থালী চালের সরবরাহে এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে মৌসুমী চাহিদা বৃদ্ধির সময়। তিনি আরও জানান, গ-টু-জি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে মোট ৮ লক্ষ টন চাল আমদানি করেছে, যা দেশের চালের মজুদকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ৫,০০০ টন চালের আগমন স্বল্পমেয়াদে চালের দামের ওঠানামা কমাতে পারে। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি সমন্বয় করে সরকার মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়, ফলে ভোক্তাদের জন্য রিটেইল দামে স্বল্পসাময়িক চাপ কমে যাবে। তবে, আমদানিকৃত চালের গুণমান ও দাম স্থানীয় উৎপাদনের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে, যাতে স্থানীয় কৃষকদের আয় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অন্যদিকে, আমদানিকৃত চালের সঞ্চয় ও বিতরণে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়। মংলা বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে চাল পৌঁছাতে রেল ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা যথাযথভাবে সমন্বয় করা দরকার। সঞ্চয় গুদামগুলোর ক্ষমতা ও শর্তাবলীও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অতিরিক্ত মজুদ হলে সংরক্ষণে ক্ষতি হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে, সরকার গ-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে চালের আমদানি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে, আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। এই দিকগুলোতে অগ্রগতি না হলে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা দেশীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মংলা বন্দরে ভারতীয় চালের আগমন স্বল্পমেয়াদে চালের সরবরাহ বাড়িয়ে দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, তবে লজিস্টিক ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দক্ষতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় উৎপাদনকে সমর্থন করা দীর্ঘমেয়াদী বাজার নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই লক্ষ্য অর্জনে মূল চাবিকাঠি হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments