ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ এখনো স্থগিত রয়েছে এবং দুই দেশের প্রধান কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এই পদক্ষেপটি উভয় দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
ইরানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ ও সহিংসতা কিছুটা কমে আসলেও, তেহরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি একত্রে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। তেহরান সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পুনরায় জোরদার করেন।
দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক সংলাপের সব চ্যানেল এখন বন্ধ রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বে চালু থাকা সরাসরি যোগাযোগের সব মাধ্যম স্থগিত করা হয়েছে। এই তথ্য এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে, ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ব্যবহার করে ইরানে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি আরও তীব্র হয়েছে, যা ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়ায়, তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই সতর্কবার্তা একটি ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার রোয়েটার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে রোধ করতে সহায়তা করে। তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্কসহ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে সেই দেশগুলোর ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানিয়েছে।
একটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে গৃহীত হতে পারে, তবে তার পরিসর ও বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষক ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, তেহরান যে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সমর্থন চেয়েছে, তাদের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



